আটটির মধ্যে ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ এত কম কেন

আটটির মধ্যে ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ এত কম কেন

৪৬তম বিসিএস নিয়ে অনেক সময় চলে যাচ্ছে পিএসসির। এই ধারণা থেকেই এবারের ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ১০ হাজার ৬৪৪ প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করা হয়েছে। কারণ হিসেবে পিএসসি বলছে, অধিকতর যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নিয়েছেন তাঁরা। তবে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় কম প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করার কাজটি শুরু করে বিগত সোহরাব হোসাইন কমিশন। ওই কমিশনের একজন সচিব আমাকে তথ্য–উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছিলেন, বেশি প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করলে পিএসসি হিমশিম খায়। সবচেয়ে বেশি সময় লাগে লিখিত পরীক্ষা নিতে ও খাতা দেখতে। তিনি বলছিলেন, এতে পিএসসি বা প্রার্থী কেউ লাভবান হয় না। প্রার্থীর ফল পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়, আবার পিএসসির এসব কাজে অনেক সময় লেগে যায়। প্রথম পরীক্ষক খাতা দেখেন, দ্বিতীয় পরীক্ষক দেখেন; আবার কোনো কোনো সময় এই খাতা তৃতীয় পরীক্ষকের কাছে যায়। তাতে আরও সময় লাগে। এই পরীক্ষকেরা অনেকে খাতা ঠিক সময়ে জমা দেন না, আবার ফোনও ধরেন না। এ কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন। বারবার খাতার জন্য পিএসসিকে বেগ পোহাতে হয়। আবার লিখিত পরীক্ষায় পাস করা প্রার্থীদের ভাইভাতেও অনেক সময় চলে যায়। বোর্ড থাকে কম। লোকবল কম। অথচ সবার ভাইভা নিতে হয়। আবার প্রার্থীদের অনেকে পাস করেও চাকরি পান না। হতাশ হয়ে পড়েন। আবার অনেক সময় ধরে ফল প্রকাশ করা, কোনো কোনো সময় চার বছরের বেশি সময় লেগে যায়। পিএসসি গালি খায়। সেই প্রার্থীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় এখানেই এক চাকরির পেছনে চলে যায়।

তাই প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় এবার অধিকতর যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নিয়েছে পিএসসি। কম প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষা নেওয়া, খাতা দেখতে তুলনামূলক কম সময় লাগা, ভাইভায় কম মানুষের সাক্ষাৎকার নেওয়া যায়। ফল দিতেও কম সময় লাগবে। আর কোনো প্রার্থী প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় যোগ্য না হলে আরেক বিসিএসের জন্য বা অন্য চাকরির জন্য চেষ্টা করতে পারবেন। তিনি শুরুতেই জেনে গেলেন তাঁকে নতুন করে চেষ্টা করতে হবে। ভাইভা দিয়ে পাস করেও চাকরি না পেলে যে হতাশা কাজ করবে, শুরুতে প্রার্থী প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় যোগ্য না হলে সেই হতাশা কিছুটা হলেও কম হবে। এসব মাথায় রেখে এবারের ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ১০ হাজার ৬৪৪ প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করা হয়েছে। এ বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশে পিএসসি ইতিহাসও গড়েছে। এটিই সবচেয়ে কম সময়ের ফল। এ পরীক্ষা নেওয়ার মাত্র ১০ দিন পরই এবার ফল প্রকাশ করে রেকর্ড গড়ল প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে ৪৬তম বিসিএসে ১৩ দিনে প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ করা হয়। এই মডেলে এখন থেকে কাজ করবে পিএসসি। এক বছরে বিসিএস শেষ করার অন্যতম এই উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে পিএসসি।

Scroll to Top