আজ ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার ২২ শ্রাবণ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকী। ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে কলকাতার জোড়াসাঁকোর পৈতৃক বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বর্ষা ছিল তার প্রিয় ঋতু। সেই বর্ষাতেই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে পরলোকে পাড়ি জমান বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এই মহীরুহ।
মাত্র আট বছর বয়সে লেখালেখি শুরু করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনি, চিঠিপত্র ও শিশুসাহিত্যসহ বাংলা সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় তিনি রেখে গেছেন অসামান্য অবদান। গীতিকার, সুরকার ও চিত্রশিল্পী হিসেবেও তিনি অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত।
সাহিত্যের পাশাপাশি শিক্ষা, সমাজসংস্কার ও পল্লি উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রবীন্দ্রনাথ। কৃষকদের জন্য কৃষিঋণব্যবস্থা চালু করেন এবং নতুন শিক্ষাদর্শের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্বভারতী। ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া নাইটহুড খেতাব ত্যাগ করে তিনি মানবতা ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন।
দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদা সুন্দরী দেবীর ১৫ সন্তানের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন ১৪তম। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঐতিহ্যবাহী ঠাকুর পরিবারে তাঁর জন্ম। বাংলার প্রকৃতি, নদী ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করে তিনি বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে অনন্য মর্যাদা এনে দেন। তাঁর রচিত ‘আমার সোনার বাংলা’ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। মহান মুক্তিযুদ্ধেও তাঁর গান বাঙালিকে সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছে।
প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে গীতিনাট্য ‘শ্যামা’ মঞ্চস্থ করবে ছায়ানট। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত।




