আকর্ষণীয় স্থানে পর্যটন করপোরেশনের হোটেল, তবু কেন লোকসান

আকর্ষণীয় স্থানে পর্যটন করপোরেশনের হোটেল, তবু কেন লোকসান

কক্সবাজারে ১৯৭২ সালে মোটেল উপল চালু করা হয়। এরপর আর সংস্কার করা হয়নি। মোটেলটিতে কক্ষ রয়েছে ৩৮টি। এর মধ্যে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ভাড়া হয় ১২টি, ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৬টি। বছরের বেশির ভাগ সময় গড়ে ১০-১২টি কক্ষ ভাড়া হয়। মোটেলটি ঘুরে দেখা গেছে, আসবাবপত্র পুরোনো। কক্ষগুলো স্যাঁতসেঁতে। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থেকে আসা নুরুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, না পারতে এখানে এক রাত থেকেছেন তিনি।

মোটেল উপলের কর্মকর্তা সৈয়দ রাজীব হোসেন বলেন, লোকবল-সংকট, আসবাবপত্র পুরোনোসহ সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উঠতে না পারায় এখানে পর্যটক কম আসছেন।
অবহেলা ও গাফিলতির একই চিত্র মোটেল লাবণীতেও। বেশির ভাগ কক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। ঘুণ ধরেছে আসবাবে। মোটেলটি থেকে কয়েক মিনিট হাঁটলে সমুদ্রের লাবণী পয়েন্ট। অথচ বছরের বেশির ভাগ সময় ফাঁকা থাকে এটি।

পরিবার নিয়ে ঢাকার মিরপুর থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি মোটেল লাবণীতে যান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসিন। কিন্তু পরিবার-পরিজন নিয়ে তাঁকে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। কেন চলে যাচ্ছেন, জানতে চাইলে মোহাম্মদ মহসিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখানে থাকার মতো অবস্থা নেই। তাই চলে যাচ্ছি।’

লাবণীর ৬০টি কক্ষের মধ্যে দুই বছর ধরে পরিত্যক্ত ১৫টি। বাকি ৪৫টির অবস্থাও খারাপ। এসব কক্ষের মধ্যে গত ১১ ফেব্রুয়ারি ভাড়া হয় ৪টি, ১২ ফেব্রুয়ারি ৩টি। গড়ে প্রতিদিন তিন-চারটির বেশি কক্ষ ভাড়া হয় না।

লাবণীর ব্যবস্থাপক ওমর ফারুক বলেন, এখানে প্রশিক্ষণকেন্দ্রসহ অত্যাধুনিক হোটেল করার প্রস্তাব রয়েছে। এ জন্য নতুন করে জরাজীর্ণ ভবনের কাজ করা হচ্ছে না। বেশির ভাগ কক্ষ খালি থাকলেও তাঁরা লোকসানে নেই বলে দাবি করেন তিনি।

হোটেল শৈবালে রয়েছে বিশাল পুকুর। দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান। সুইমিং পুল। অথচ হোটেলটিতে থাকতে পর্যটকদের আগ্রহ নেই। জৌলুশ হারিয়েছে ১৩৫ একর জায়গার ওপর নির্মিত হোটেলটি। সেখানে থাকা ২৪টি কক্ষের মধ্যে গত ১১ ফেব্রুয়ারি ১১টি কক্ষ ভাড়া হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি হয় ১২টি। বছরের বেশির ভাগ সময় অর্ধেকের বেশি কক্ষ খালি থাকে।

২০০ কক্ষের অত্যাধুনিক হোটেল নির্মাণের জন্য চার বছর আগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে হোটেল শৈবালের ব্যবস্থাপক রায়হান উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, এটি বাস্তবায়িত হলে পর্যটক বাড়বে।

Scroll to Top