অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে পরিবারকে বাঁচাতে এক কিশোরের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাঁতার | চ্যানেল আই অনলাইন

অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে পরিবারকে বাঁচাতে এক কিশোরের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাঁতার | চ্যানেল আই অনলাইন

অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম উপকূলে উত্তাল সমুদ্রে ভেসে যাওয়া মা ও দুই ভাইবোনকে বাঁচাতে টানা কয়েক ঘণ্টা সাঁতার কেটে তীরে পৌঁছে সতর্কবার্তা দেন ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর। তার এই সাহসিকতা ও দৃঢ়তায় পরিবারটির প্রাণ রক্ষা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের জিওগ্রাফ বে এলাকায় পরিবারটি প্যাডলবোর্ডিং ও কায়াকিং করছিল। এ সময় হঠাৎ প্রবল বাতাসে তাদের ব্যবহৃত ইনফ্ল্যাটেবল নৌযানগুলো পথচ্যুত হয়ে গভীর সমুদ্রে ভেসে যায়, জানিয়েছে পুলিশ।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কিশোরটি তীরে ফিরে সাহায্য চাইতে কায়াক নিয়ে রওনা দেয়। তবে কায়াকে পানি ঢুকে পড়লে সে সেটি ছেড়ে দিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার (দুই নটিক্যাল মাইল) সাঁতার কেটে তীরে পৌঁছায়।

ন্যাচারালিস্ট ভলান্টিয়ার মেরিন রেসকিউ গ্রুপ এক বিবৃতিতে জানায়, এই পরিবারের সাহস, শক্তি ও দৃঢ়তা ছিল অসাধারণ—বিশেষ করে সেই কিশোরের, যে চার কিলোমিটার সাঁতার কেটে সতর্কবার্তা দিয়েছে।

সংস্থাটির কমান্ডার পল ব্রেসল্যান্ড কিশোরটির প্রচেষ্টাকে ‘অতিমানবীয়’ বলে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, প্রথম দুই ঘণ্টা সে লাইফ জ্যাকেট পরে সাঁতরেছে। পরে মনে হয়েছে, লাইফ জ্যাকেট পরে আর এগোনো সম্ভব নয়—তাই সেটি খুলে দিয়ে পরের দুই ঘণ্টা লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই সাঁতরায়।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ কিশোরটি তীরে পৌঁছে সতর্কবার্তা দিতে সক্ষম হয়। এরপর কুইন্ডালাপ বিচ এলাকা থেকে নিখোঁজদের উদ্ধারে ব্যাপক তল্লাশি শুরু হয় বলে সোমবার এক বিবৃতিতে জানায় পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া পুলিশ।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রে একটি প্যাডলবোর্ড আঁকড়ে ধরে থাকা কিশোরটির ৪৭ বছর বয়সী মা, তার ১২ বছরের ভাই ও আট বছরের বোনকে শনাক্ত করে। পরে একটি স্বেচ্ছাসেবী মেরিন রেসকিউ জাহাজ তাদের অবস্থানে গিয়ে তিনজনকেই নিরাপদে উদ্ধার করে তীরে ফিরিয়ে আনে।

ঘটনাটিকে সমুদ্রের পরিস্থিতি কত দ্রুত বদলে যেতে পারে—তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্মরণ করিয়ে দেওয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন পরিদর্শক জেমস ব্র্যাডলি।

তিনি বলেন, সৌভাগ্যক্রমে তিনজনই লাইফ জ্যাকেট পরেছিলেন, যা তাদের বেঁচে থাকতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, ১৩ বছর বয়সী এই কিশোরের কাজের প্রশংসা যতই করা হোক কম হবে। তার দৃঢ়তা ও সাহসই শেষ পর্যন্ত তার মা ও ভাইবোনদের জীবন বাঁচিয়েছে।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার শেষে পরিবারটির সদস্যদের প্যারামেডিকরা পরীক্ষা করেন এবং পরে নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তারা ছাড়পত্র পান।

Scroll to Top