অবৈধ আদেশে গণভোট সিইসি আইনি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে মনজিল মোরসেদের সতর্কবার্তা – DesheBideshe

অবৈধ আদেশে গণভোট সিইসি আইনি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে মনজিল মোরসেদের সতর্কবার্তা – DesheBideshe

অবৈধ আদেশে গণভোট সিইসি আইনি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে মনজিল মোরসেদের সতর্কবার্তা – DesheBideshe

ঢাকা, ৬ মার্চ – সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ মন্তব্য করেছেন যে গণভোট আয়োজনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটির কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।

তিনি উল্লেখ করেন যে শুরু থেকেই একটি অবৈধ আদেশের ওপর ভিত্তি করে এই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে এবং এর ফলে ভবিষ্যতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা সিইসিকে আইনি জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হতে পারে। সম্প্রতি বিশিষ্ট সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নার ইউটিউব চ্যানেল মানচিত্রে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মনজিল মোরসেদ এসব কথা বলেন।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে বিষয়টিকে দুটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা সম্ভব যার একটি হলো রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য এবং অন্যটি হলো গেজেট আকারে জারি করা জুলাই সনদ সংবিধান সংশোধন আদেশ ২০২৫। তিনি স্পষ্ট করেন যে রাজনৈতিক ঐকমত্য বেআইনি না হলেও গেজেটের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ সম্পূর্ণ অবৈধ।

সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে তিনি বলেন সংসদ অধিবেশন না থাকলে জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন তবে সেই অধ্যাদেশ সংবিধানের কোনো ধারার বিরোধী হতে পারবে না। রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের আদেশ জারি করা সাংবিধানিক ক্ষমতার বাইরে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মনজিল মোরসেদ আরও বলেন ওই আদেশে গণভোটের কথা বলা হলেও নির্বাচন কমিশনের গণভোট আয়োজনের কোনো সাংবিধানিক ম্যান্ডেট নেই। তিনি দাবি করেন যে পরে সেই আদেশের ভিত্তিতে অধ্যাদেশ জারি করে গণভোট আয়োজন করা হয়েছে যা আইনের দৃষ্টিতে মূল্যহীন।

তাঁর মতে সংবিধান সংশোধনের একমাত্র বৈধ পথ হলো সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ এবং এর বাইরে অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধনের সুযোগ নেই। তাই গণভোটের পুরো আয়োজনকে তিনি শুভঙ্করের ফাঁকি হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি অভিযোগ করেন যে একটি গোষ্ঠী কোনো রকম মতানৈক্য বা বিতর্ক সৃষ্টি করার জন্য তৎপর ছিল যাতে তারা কয়েক বছর দেশ পরিচালনা করতে পারে এবং এ জন্য কিছু প্রভু দেশ ও তাদের এজেন্টরা সক্রিয় ছিল। তিনি সতর্ক করে বলেন অবৈধ ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে গণভোট আয়োজন করায় ভবিষ্যতে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

এম ম/ ৬ মার্চ ২০২৬



Scroll to Top