অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে হুড়োহুড়ি এড়াতে ঈদের দিন যাত্রা, সদরঘাটে শেষ বিল্লালের পুরো পরিবার

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে হুড়োহুড়ি এড়াতে ঈদের দিন যাত্রা, সদরঘাটে শেষ বিল্লালের পুরো পরিবার

ঈদের দিন মায়ের মুখ দেখার বদলে বিল্লালের মরদেহ পড়ে আছে মর্গে। পরনে ঈদের আগে কেনা নতুন জামা ও জিনসের প্যান্ট। তাঁর শরীরের কোথাও তেমন আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে মাথায় রক্তের ছোপ ছোপ দাগ রয়েছে। বিল্লালের পাশে রাখা হয়েছে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মুক্তার মরদেহ। তাঁর পরনেও ঈদের আগে কেনা নতুন জামা। আর তাঁদের আদরের একমাত্র সন্তান মাইশার মরদেহ মায়ের পাশে রাখা হয়েছে। তার পরনেও নতুন জামা।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের কর্মী মো. মিলন প্রথম আলোকে বলেন, ছোট্ট মাইশার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। কেবল মাইশা নয়, লঞ্চের রশির আঘাতে মারা যাওয়া কারোরই শরীরে তেমন আঘাতের চিহ্ন নেই। তিনজনই মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে মারা গেছেন।

জানতে চাইলে নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) আশিক সাঈদ প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ফারহান-৬ ও তাসরিফ-৪ লঞ্চের চালকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। লঞ্চ দুটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

মামলায় বলা হয়েছে, আসামিরা অবহেলাপূর্বক বেপরোয়া ও দ্রুতগতিতে লঞ্চ চালানোর ফলে লঞ্চের পুরোনো রশি ছিঁড়ে গিয়ে সেটার আঘাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
মুহূর্তের মধ্যে যেভাবে মারা যান বিল্লালরা

Scroll to Top