অনিয়ম, কারচুপি ও প্রহসনের অভিযোগ এনে ফের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ‘বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব স্টুডেন্ট ফ্রন্ট’ সমর্থিত প্যানেল ‘রেভ্যুলেশন ফর স্টেট অব হিউম্যানিটি’।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৫ টায় চাকসু ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে প্যানেলের ভিপি প্রার্থী কেফায়েত উল্লাহ ভোট বর্জনের এই ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, আমরা চাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পরবর্তী সময়ে সুষ্ঠ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নয় দফা দাবি জানিয়েছিলাম, যার কোনোটিই সুষ্ঠু বাস্তবায়ন হয়নি।
পাশাপাশি ভোটার, প্রার্থী এবং আমাদের মনোনীত পোলিং এজেন্ট, পর্যবেক্ষকদের অভিযোগ এবং আমাদের স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে কমিশন ও বিভিন্ন প্যানেলের বিভিন্ন অসঙ্গতি সুস্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
তাদের অভিযোগগুলো হল—
১. বিবিএ ফ্যাকাল্টির ৩৩৫ নম্বর রুমে জাল ভোট।
২. বিবিএ ফ্যাকাল্টি ২২৩ নং রুমে সিগনেচার ছাড়া ৮০+ ব্যালট পেপার প্রদান।
৩. আইটি ভবনে ব্যালট স্বাক্ষর ছাড়া প্রদান।
৪. কালি মুছে যাচ্ছে।
৫. কাটাপাহাড় রোডে ফ্রেম বসানো
৬. গাড়ি চলাচল নাই, বাস নাই।
৭. ভোট কেন্দ্রে লিফলেট প্রদান, স্লিপ প্রদান।
৮. সাংবাদিক ঢুকতে না দেওয়া।
৯. পর্যাপ্ত মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকা।
১০. আইটি ফ্যাকাল্টির ২১৪ নাম্বার রুমে স্বাক্ষরবিহীন ব্যালট পেপার।
১১. বিবিএ ফ্যাকাল্টির ৩৩৬ নম্বর রুমে ব্যালট ভাঁজ করা।
১২. সায়েন্স ফ্যাকাল্টির ৪১৩ নম্বার রুমে তিন ঘন্টা যাবত প্রার্থীর অবস্থান ও স্লিপ প্রদান।
১৩. একাধিক প্যানেলের কেন্দ্রগুলোর ভেতরে ঢুকে স্লিপ প্রদান।
১৪. ৩৩৫ নং রুম বিবিএ ফ্যাকাল্টির ভোটারদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি ভোটার তালিকায়।
অভিযোগ উত্থাপন করে কেফায়েত বলেন, “অতএব, এসকল অনিয়ম ও অসুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ভিত্তিতে আমরা চাকসু নির্বাচন ২০২৫ বয়কট করছি।”
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সকার উপর ‘অনাস্থা জ্ঞাপন করে’ তাদের পদত্যাগ দাবি করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও পুনরায় সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি রেখেছেন।
এদিকে বড় কোন গোলযোগ ছাড়াই উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু), হল ও হোস্টেল সংসদের ভোটগ্রহণ।
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় ক্যাম্পাসের আইটি ভবন, নতুন কলা ভবন, বিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান ও বাণিজ্য (বিবিএ) অনুষদ ভবনের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। পাঁচটি ভবনের ৬০টি কক্ষে প্রায় ৭০০টি বুথে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলে।
সকাল ৯টার সময় ভোটগ্রহণ শুরুর কথা থাকলেও ভোটগ্রহণ শুরু হতে বিলম্ব হয় আধা ঘণ্টা; আর দৃষ্টিহীনদের আরও বিলম্বে বেলা সাড়ে ১১টায় ভোট নেওয়া শুরু হয়।




