৬টি বিশ্বকাপ, ১০ ভিন্ন সতীর্থ: যেভাবে অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়লেন মেসি

৬টি বিশ্বকাপ, ১০ ভিন্ন সতীর্থ: যেভাবে অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়লেন মেসি

মাঠে ফুটবলার লিওনেল মেসির মূল কাজটা কী? খুব সহজ করে বললে হয়তো বলতে হবে—গোল করা আর গোল করানো। আর এই দুই বিভাগেই যদি নম্বর দেওয়া হয়, তবে মেসিকে চোখ বন্ধ করে ১০–এ ১০-ই দিতে হবে।

কারণ, বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল এবং সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট—দুটি রেকর্ডই যে এখন তাঁর একচ্ছত্র দখলে! ২১টি গোল নিয়ে তিনি আছেন বিশ্বমঞ্চের গোলদাতাদের সবার শীর্ষে, আর অ্যাসিস্টের তালিকায় চূড়ায় বসে আছেন ১০টি অ্যাসিস্ট নিয়ে।

তবে মেসির এই অ্যাসিস্টের গল্পের ভেতরে লুকিয়ে আছে বিশেষ একটা গল্পও। ২০০৬ সাল থেকে বিশ্বমঞ্চে যাত্রা শুরু করা মেসি অ্যাসিস্ট করেছেন তাঁর ক্যারিয়ারে খেলা ৬টি বিশ্বকাপের প্রতিটিতেই! ফুটবল ইতিহাসে আর কোনো খেলোয়াড়ের এমন অতিমানবীয় কীর্তি নেই। এই ১০টি অ্যাসিস্ট আবার তিনি করেছেন ভিন্ন ভিন্ন ১০ জন ফুটবলারকে!

বিশ্বকাপে মেসি তাঁর প্রথম অ্যাসিস্টটি করেছিলেন ২০০৬ সালে, সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে হার্নান ক্রেসপোকে দিয়ে। আর তালিকায় একদম শেষের দিকে আছেন হুলিয়ান আলভারেজ কিংবা ম্যাক অ্যালিস্টারদের মতো তরুণেরা।

বলা যায়, নিজের এই জাদুকরি পাসগুলো দিয়ে মেসি আর্জেন্টিনার কয়েকটি প্রজন্মকে যেন এক সুতোয় গেঁথেছেন। একই সঙ্গে প্রতিটি প্রজন্মের সতীর্থদের সঙ্গেই যে তাঁর মাঠের রসায়নটা দুর্দান্ত, সেটিও স্পষ্ট হয়ে ওঠে এই পরিসংখ্যানে।

হারনান ক্রেসপো (২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপ)
২০০৬ বিশ্বকাপে সার্বিয়া ও মন্টিনিগ্রোর বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে নিজের অভিষেক ম্যাচে ক্রেসপোকে দিয়ে গোল করান মেসি। এটি ছিল ম্যাচে আর্জেন্টিনার চতুর্থ গোল। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৬-০ ব্যবধানের বিশাল জয় পায়।

কার্লোস তেভেজ (২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ)
২০১০ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে তেভেজের প্রথম গোলটিতে সহায়তা করেন মেসি। সেই ম্যাচে ৩–১ গোলে জেতে আর্জেন্টিনা।

আনহেল দি মারিয়া (২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপ)
২০১৪ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে দি মারিয়ার জয়সূচক গোলের উৎস ছিলেন মেসি। ১১৮তম মিনিটে আসা এই একমাত্র গোলটির সৌজন্যে আর্জেন্টিনা ১-০ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছায়।

গ্যাব্রিয়েল মের্কাদো (২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ)
২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ম্যাচে মের্কাদোর করা গোলটিতে অবদান রাখেন মেসি। ম্যাচের ৪৮তম মিনিটে করা এই গোলটি ছিল আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোল।

সের্হিও আগুয়েরো (২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ)
২০১৮ সালের সেই একই ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে আগুয়েরোকে দিয়ে গোল করান মেসি। ম্যাচের ৯৩তম মিনিটে করা এই গোলটি ছিল আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোল, এই গোলটি আর্জেন্টিনার ৪–৩ গোলে হারের ম্যাচে ব্যবধানটাই কমিয়েছে।

এনজো ফার্নান্দেজ (২০২২ কাতার বিশ্বকাপ)
২০২২ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের বাঁচামরার ম্যাচে ফার্নান্দেজকে দিয়ে দুর্দান্ত এক গোল করান মেসি। ৮৭তম মিনিটে করা এই গোলটি ছিল ম্যাচের দ্বিতীয় গোল এবং ম্যাচটিতে আর্জেন্টিনা ২-০ ব্যবধানে জেতে।

কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে গোল ও গোলে সহায়তা দুটোই করেন মেসি

নাহুয়েল মোলিনা (২০২২ কাতার বিশ্বকাপ)
২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মোলিনাকে এক অবিশ্বাস্য পাস দেন মেসি। ৩৫তম মিনিটে আসা এই গোলটি ছিল ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রথম গোল; ম্যাচটি ২-২ সমতায় শেষ হওয়ার পর পেনাল্টিতে ৬-৫ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে যায় আর্জেন্টিনা।

হুলিয়ান আলভারেজ (২০২২ কাতার বিশ্বকাপ)
এটি এসেছে ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ডিফেন্ডার গাভার্দিওলকে ড্রিবলিংয়ে পরাস্ত করে আলভারেজকে দিয়ে গোল করান মেসি। ৬৯তম মিনিটের এই গোলটি ছিল দলের তৃতীয় এবং ম্যাচটিতে ৩-০ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা।

ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড মেসির

ক্রিস্টিয়ান রোমেরো (২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ)
চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির প্রথম অ্যাসিস্ট। মিসরের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ম্যাচে ডিফেন্ডার রোমেরোর গোলের জোগান দেন মেসি। এই অ্যাসিস্টে ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়েন মেসি। ম্যাচটিতে ৩–২ গোলে জেতে আর্জেন্টিনা।

অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ)
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ম্যাক অ্যালিস্টারকে দিয়ে গোল করিয়ে নিজের ১০তম বিশ্বকাপ অ্যাসিস্ট পূরণ করেন মেসি। এটি ছিল ম্যাচের প্রথম গোল, যার ওপর ভর করে আর্জেন্টিনা সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জয় তুলে নেয়।

Scroll to Top