১৪ মিনিটের ঝড়, প্রত্যাবর্তনের মহাকাব্য লিখে কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনা | চ্যানেল আই অনলাইন

১৪ মিনিটের ঝড়, প্রত্যাবর্তনের মহাকাব্য লিখে কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনা | চ্যানেল আই অনলাইন

কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দারুণ শুরু করেছিল মিশর। প্রথমার্ধে এক গোল করার পাশাপাশি লিওনেল মেসির নেওয়া পেনাল্টিও ঠেকিয়ে ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় আফ্রিকার দলটি। তবে শেষদিকে মেসি-ফের্নান্দেজদের ১৪ মিনিটের ঝড়ে শেষপর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি। জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল লিওনেল স্কালোনির দল। 

আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার ম্যাচের ১৫তম মিনিটে শর্ট কর্নার থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণে এগিয়ে যায় মিশর। মারওয়ান আতেয়ার বাড়ানো ক্রসে লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে হারিয়ে শক্তিশালী হেডে বল জালে পাঠান ইয়াসির ইব্রাহিম। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের কিছুই করার ছিল না।

গোল হজমের আগ থেকেই নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ছিল না আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠে বারবার বল হারানো ও ভুল পাসের কারণে আক্রমণ সাজাতে হিমশিম খেতে হয় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের।

৩১ মিনিটে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। মিশরের ডিফেন্ডার হাইসেম হাসানের ফাউলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। স্পট কিক নিতে আসেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে ডান দিকের নিচু কোণে নেয়া তার শট অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবির। দুর্দান্ত সেই সেভে মিশরের লিড অক্ষুণ্ন থাকে।

এরপর ৩৯ মিনিটে আবারও নায়ক হয়ে ওঠেন শোবির। নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে কাছ থেকে জোরালো শট নেন জুলিয়ান আলভারেজ। কিন্তু দারুণ প্রতিক্রিয়ায় সেটিও ঠেকিয়ে দেন মিশর গোলরক্ষক।

৪৪ মিনিটে আর্জেন্টিনার আরও একটি বিপজ্জনক প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন শোবির। অন্যদিকে গোলের পর উল্লেখযোগ্য কোন আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি মিশর। তবু রক্ষণে শৃঙ্খলা ধরে রেখে ১-০ গোলের লিড নিয়েই প্রথমার্ধ শেষ করে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

৫৮ মিনিটে দুর্দান্ত এক কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করে মিশর। জিকোর কাছ থেকে আসা বল চমৎকার ফিনিশিংয়ে এগিয়ে গিয়েছিল তারা। কিন্তু আক্রমণের শুরুর দিকে ফাউল হওয়ার কারণে ভিএআর দেখে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। হাইসেম হাসানের চমৎকার দৌড়ে সালাহর পাস এবং জিকোর ফিনিশিং মিলিয়ে এটি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোল হতে পারতো।

তবে ব্যবধান দিগুণ করতে বেশি সময় নেয়নি মিশর। এবার আর কোন সন্দেহ নেই, গোলটিও ছিল দারুণ। আক্রমণের সূচনা করেন মোহাম্মদ সালাহ। তিনি ডান প্রান্তে বল বাড়িয়ে দেন দুর্দান্ত খেলতে থাকা হাসানের কাছে। হাসান নিচু ক্রসে বল বাড়িয়ে দেন বক্সের মাঝখানে, আর কোন মার্কিং ছাড়াই থাকা জিকো সহজ এক শটে বল জালে পাঠান। তাতে ২-০তে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দেশটি।

এরপর অবশ্য ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা। ৭৯ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ফাঁকি দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং ডান দিক থেকে বাড়ানো মেসির একটি ক্রসে চমৎকার হেডে বল জালে জড়ান।

মিশরীয় গোলরক্ষক শোবের হাত দিয়ে বলটি ঠেকানোর জোরদার চেষ্টা করলেও পোস্টের ভেতরের কোণ দিয়ে বল লাইনের ভেতরে ঢুকে পড়লে আর আটকাতে পারেননি। মিশরীয় ডিফেন্ডাররা অফসাইডের জন্য আবেদন করলেও তা বৃথা যায়।

লিওনেল মেসি ম্যাচের ৮৪ মিনিটে গোল করে সমতা ফেরান, যা ছিল এই বিশ্বকাপে তার অষ্টম গোল। গোলরক্ষকের গায়ে লেগে এবং বারের নিচের অংশে লেগে বলটি জোরালো শটে জালে জড়ায়। তাতে চার মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করে আর্জেন্টিনা।

একের পর এক আক্রমণে থাকা আর্জেন্টিনার জয়সূচক তৃতীয় গোলটি আসে এনজো ফের্নান্দেজের কাছ থেকে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর যোগ করা সময়ে তৃতীয় মিনিটে তার গোলেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

Scroll to Top