হৃদয়-শামীমের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে রেকর্ড গড়া জয় বাংলাদেশের | চ্যানেল আই অনলাইন

হৃদয়-শামীমের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে রেকর্ড গড়া জয় বাংলাদেশের | চ্যানেল আই অনলাইন

চট্টগ্রাম থেকে: বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য বড়ই দিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। সাগরিকায় ১৮৪ রানের লক্ষ্যে নেমে দারুণ খেলা উপহার দিয়েছেন তাওহীদ হৃদয় ও শামীম পাটোয়ারী। তাণ্ডব চালানো ব্যাটিংয়ে রেকর্ড গড়ে ৬ উইকেটে জয় তুলে নিয়েছে লিটন দাসের দল। ২-১ ব্যবধানে কিউইদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর টি-টুয়েন্টিতে ১-০তে এগিয়ে গেল লাল-সবুজেরা।

চট্টগ্রামের মাটিতে যেকোনো দলের সর্বোচ্চ রানতাড়া করে জয়ের রেকর্ড এটি। গত নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের দেয়া ১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ১৭৪ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। সেটা আগের সর্বোচ্চের রেকর্ড।

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টসে জিতে সফরকারীদের ব্যাটে পাঠান লিটন। কিউইরা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮২ রানের সংগ্রহ গড়ে। জবাবে ১২ বল হাতে রেখে জয় তুলেছে বাংলাদেশ। ডাচ-বাংলা ব্যাংক সিরিজের ধারাভাষ্য শোনা যাচ্ছে রেডিও ভূমিতে।

রানতাড়ায় নেমে বাংলাদেশকে ভালো শুরু এনে দেন সাইফ হাসান ও তানজিদ তামিম। উদ্বোধনীতে ৪১ রান তোলেন দুজনে। ৫.৩ ওভারে সাইফের আউটে জুটি ভাঙে। ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৬ বলে ১৭ রান করেন তিনি। তিনে নেমে লিটন ঝড়ো শুরু করলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি।

৮.৫ ওভারে দলীয় ৬৬ রানে লিটন আউট হন। ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৫ বলে ২১ রান করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ১০.১ ওভারে ৭৭ রানের সময় আউট হন তানজিদ তামিম। ১ চারে ২৫ বলে ২০ রান করে যান। চতুর্থ উইকেটে তাওহীদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন যোগ করেন ২৮ বলে ৫৭ রান।

১৪.৫ ওভারে ইমন আউট হলে জুটি ভাঙে। ১ চার ও ২ ছক্কায় ১৪ বলে ২৮ রান করেন ইমন। পরে তাওহীদ হৃদয় ও শামীম হোসেন পাটোয়ারী মিলে ঝড় তোলেন। ম্যাথিউ ফিশারের করা ১৭তম ওভারে ২৫ রান তোলেন তারা। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে।

পরে দুজনের ২১ বলে ৪৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৬ উইকেটে জয় তুলে নেয় টিম টাইগার্স। হৃদয় ২ চার ও ৩ ছক্কায় ২৭ বলে ৫১ এবং শামীম ৩ চার ও ২ ছক্কায় ১৩ বলে ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন।

কিউইদের মধ্যে ইশ সোধি ২ উইকেট নেন। নাথান স্মিথ ও জশ ক্লার্কসন নেন একটি করে উইকেট।

এর আগে ব্যাটে নেমে উড়ন্ত শুরু পায় নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় ওভারে উদ্বোধনী জুটি ভাঙে রানআউটে। তাওহীদ হৃদয়ের সরাসরি হিটে রানের খাতার খোলার আগে ফেরেন টিম রবিনসন। পরে ঝড় তোলেন কেটিন ক্লার্ক ও ডিন ক্লেভার। ৫০ বলে ৮৮ রান যোগ করেন দুজনে।

৯.৪ ওভারে ৯৯ রানের সময় ক্লেভারকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন রিশাদ। ৭ চার ও ১ ছক্কায় ২৮ বলে ৫১ রান করেন তিনি। ১১.৪ ওভারে দলীয় ১১০ রানে ক্লার্ক আউট হন। ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৩৭ বলে ৫১ রান করে যান এ ওপেনার।

১১৭ রানে চতুর্থ সাফল্য পায় বাংলাদেশ। বেভন জ্যাকবসকে ফেরান তানজিম সাকিব। ২ বলে ১ রান করেন জ্যাকবস। ১৫তম ওভারের শেষ বলে ১৩০ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় সফরকারী দল। ৭ বলে ৩ রান করা ডিন ফক্সক্রফটকে বোল্ড করেন শেখ মেহেদী।

১৬.৩ ওভারে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ যখন ৫ উইকেটে ১৫৫ রান, আলোকস্বল্পতায় বন্ধ হয়ে যায় খেলা। ১৫ মিনিট পর গড়ায় লড়াই। এরপর দ্রুত ষষ্ঠ উইকেট হারায় সফরকারীরা। ৫ চার ও ১ ছক্কায় ২৭ বলে ৩৯ রান করে আউট হন নিক কেলি।

জশ ক্লার্কসন ও নাথান স্মিথ ইনিংস শেষ করেন। জশ ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৪ বলে ২৭ রানে ও স্মিথ ৪ বলে ২ রানে অপরাজিত থাকেন।

টাইগার বোলারদের মধ্যে রিশাদ ২ উইকেট নেন। শেখ মেহেদী, শরিফুল ইসলাম ও তানজিম সাকিব নেন একটি করে উইকেট।

Scroll to Top