হাম ছাড়লেও যম ছাড়ছে না

হাম ছাড়লেও যম ছাড়ছে না

শিশু হাসপাতালের গেটে ইঞ্জিনচালিত রিকশার জন্য অপেক্ষা করছিলেন সাবেরা বেগম। কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া যাবেন বোনের বাড়ি। সেখান থেকে যাবেন শরিয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার চর সেনসাস ইউনিয়নের খালাসিকান্দি। মেলা পথ। কোলে তার আট মাসের শিশু। বোনের বাড়ি বেড়াতে এসে হামের শিকার হয়েছিল তাঁর সন্তান। কোনো আশা ছিল না, তারপরেও ‘আল্লাহ ফিরায়ে দেছে।’

দিন পনেরো হাসপাতালে থেকে তাঁর যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তার ভিত্তিতে তিনি বললেন,‘হাম ছাড়লেও যম ছাড়ছে না, মৃত্যু ঘুরছে শিশুদের পিছু পিছু।’ হাম শিশুদের জন্য একটা কঠিন ব্যারাম; রাবণের মতো এক মাথা কাটলে আরও মাথা গজায়। হাম থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি গিয়ে আবার ফিরে এসেছে অনেকে—কেউ নিউমোনিয়া নিয়ে, কেউ ডায়রিয়া নিয়ে ভুগতে ভুগতে মারা গেছে বাবা–মায়ের চোখের সামনে। অনেক ক্ষেত্রে কোনো ওষুধই কথা শুনছে না (অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না)।

সাবেরা বেগমের কথার প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে জনস্বাস্থ্য–বিশেষজ্ঞ আর চিকিৎসকদের মুখে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, হামের ধামাকা (সংক্রমণ) কিছুটা কমেছে, তবে গোল বাঁধছে হাম–পরবর্তী জটিলতা নিয়ে। উদ্বেগ বাড়ছে হাম–পরবর্তী জটিলতায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা নিয়ে। চিকিৎসকদের মতে, হাম হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ভেঙে যায়। তাই সহজে শিশু নিউমোনিয়া, ডায়রিয়ার মতো রোগে বেশি বেশি আক্রান্ত হয়, সেই সঙ্গে পুষ্টির ঘাটতি উদ্বেগের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

Scroll to Top