স্পেনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য প্রথমবারের মতো সরাসরি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রদান কার্যক্রম শুরু করেছে স্পেনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।
শনিবার (১৬ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি কাজী আরিফুর রহমান’র নেতৃত্বে পরিচালিত এ কার্যক্রমের মাধ্যমে স্পেনপ্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এবং বাংলাদেশের পুলিশ প্রধানের তত্ত্বাবধানে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের একটি বিশেষ দল বর্তমানে মাদ্রিদে অবস্থান করছে। তারা দূতাবাস থেকে সেবা প্রত্যাশীদের দ্রুত ও কার্যকরভাবে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রদান করছেন।
স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসউদুর রহমান বলেছেন, সেবা গ্রহণের উপযুক্ত সর্বশেষ সেবা প্রার্থীটিকেও এই সেবা পৌঁছে দিতে দূতাবাসের চেষ্টা অব্যহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রবাসী বান্ধব অন্যান্য উদ্যোগের মধ্যে এটি অন্যতম অগ্রাধিকার উদ্যোগ। যার সুফল স্পেন প্রবাসীরা পাচ্ছেন।
স্পেন বিএনপি সভাপতি জামাল উদ্দিন মনির জানিয়েছেন, স্পেন প্রবাসীদের বাস্তব সমস্যা সমাধানে প্রবাসী বান্ধব বিএনপি সরকার এর প্রধানমন্ত্রী ও পার্টি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ বাস্তবায়নে স্পেন বিএনপির প্রত্যেক নেতাকর্মী, সাধারণ প্রবাসীদের সেবায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন এর তত্বাবধানে স্পেন বিএনপির এই সেবা কার্যক্রম শেষ পর্যন্ত অব্যহত থাকবে।
তিনি আরও দাবি করেন, রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সহায়তায় দূতাবাস থেকে সরাসরি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার এ উদ্যোগ বিশ্বে বিরল উদাহরণ।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পেদ্রো সানচেজ সরকারের ঘোষিত ‘ম্যাসিভ রেগুলারাইজেশন’ কর্মসূচির আওতায় স্পেনে বসবাসরত প্রায় ২০ হাজার অনিয়মিত বাংলাদেশি বৈধ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এই প্রক্রিয়ায় ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে অবস্থানের প্রমাণ দেখাতে পারলে আবেদনকারীরা বৈধতার সুযোগ পাবেন। দেশটির ক্ষমতাসীন স্প্যানিশ সোশ্যালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টি সরকার ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এ সুযোগ বহাল রাখবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট হিসেবে একজন স্পেন প্রবাসীকে এই সুযোগ গ্রহণ করতে হলে ৫ মাস স্পেনে বসবাসের বিশ্বাসযোগ্য নথি, ভ্যালিড পাসপোর্ট ও নিজ দেশের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট অপরিহার্য। নবায়নকৃত পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে এই নজিরবিহীন উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার।






