নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশি বাজতেই একদিকে যখন বিশ্বজয়ের উল্লাসে ফেটে পড়ল স্পেন, অন্যদিকে তখন আকাশি-সাদা শিবিরে নেমে এল এক নিস্তব্ধতা। বিশ্বকাপের মহারণে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানের এই হারে বিশ্বজয়ের মুকুট হাতছাড়া হয়েছে আর্জেন্টিনার। তবে শিরোপা হারানোর বিষাদময় দিনেও কোনো অজুহাত না খুঁজে স্পেনের শ্রেষ্ঠত্বকে মাথা পেতে নিয়েছেন আলবিসেলেস্তে কোচ লিওনেল স্কালোনি।
ম্যাচ শেষে স্কালোনি বলেন, ‘হারের অনুভূতিটা অবশ্যই কষ্টের, কিন্তু আমরা আমাদের সর্বস্বটাই মাঠে উজাড় করে দিয়েছি। কীভাবে আমরা এতটা পথ পেরিয়ে এখানে এসে পৌঁছেছি, তা নিয়ে আমার অনেক কিছুই বলার আছে, তবে এখন আর সেসব ভেবে লাভ নেই। এই ছেলেদের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা, যারা আবারও একটা ফাইনাল খেলল এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করল। দিনশেষে স্পেনই আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে, তবে এই দলটাকে নিয়ে আমার দারুণ সব স্মৃতি থেকে যাবে। এত দূর আসতে পারাটা যে কতটা কঠিন, সেই অর্জনকে আমাদের সম্মান জানানো উচিত।’
হারলেও অবশ্য দুই বিশ্বকাপে ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছানোকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি, ‘আমাদের এই সত্যিটা স্বীকার করতেই হবে যে, টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালের এই চূড়ায় উঠতে পারাটাই অনেক বড় বিষয়।’
স্পেনের বিপক্ষে হার স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছেন স্কালোনি। বলেছেন, ‘জয়ের আনন্দে আমরা যেমন এক থাকি, হারের বিষাদকেও একইভাবে সম্মান জানানো উচিত। আমরা মেনে নিচ্ছি যে আজ আমরা হেরেছি। তবে আমরা আমাদের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়েছি। একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে হয়তো আমরা খেই হারিয়ে ফেলেছি, কিন্তু খেলোয়াড়েরা আজ মাঠে যেভাবে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে-তা আমাদের দেশের মানুষ এবং তরুণদের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ফুটবল আপনাকে হারাবে, আবার আপনাকে সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়াতে হবে।’
শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শিষ্যদের এমন আত্মত্যাগে গর্বিত স্কালোনি যোগ করেন, ‘শেষ মুহূর্তগুলোর কথা আমার স্পষ্ট মনে আছে, কারণ ফাইনালের এই জায়গায় পৌঁছানো কতটা কষ্টের, তা কেবল আমরাই জানি। ট্রফিটা আমরাই উঁচিয়ে ধরতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এই ছেলেদের প্রতি ধন্যবাদ ছাড়া আমার আর কিছুই বলার নেই। আপনি ভালো খেলতে পারেন কিংবা খারাপ, কিন্তু যখন কেউ মাঠে এভাবে নিজের সবটুকু ঢেলে দেয়-তখন তাকে আর দোষ দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না।’


