সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি সই হওয়া ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে ‘বড়, সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রোববার (১৬ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করায় তিনি খুবই আনন্দিত।
ট্রাম্প লিখেছেন, এটি দেখাচ্ছে কীভাবে মধ্যপ্রাচ্য ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে এবং দেশগুলো কীভাবে আরও কার্যকরভাবে নিজেদের প্রতিরক্ষা করতে পারবে। তিনি চুক্তিটিকে ‘বড়, সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ’ বলেও উল্লেখ করেন।
গত ৭ আগস্ট তিন দেশের মধ্যে চুক্তিটি সই হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো। এই সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার ঘটনাও রয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী তিন দেশের যেকোনো একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর মূল লক্ষ্য হলো তিন দেশের সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা।
চুক্তিতে তিন দেশ নিজেদের যৌথ নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরেও শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করার অঙ্গীকার করেছে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টায় অংশ নেওয়ার বিষয়েও তিন দেশ নিজেদের অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ফলে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


