সৌদি আরবে প্রবাসীর মৃত্যু, শেষবারের মতো দেখতে অপেক্ষায় স্ত্রী ও তিন কন্যা

সৌদি আরবে প্রবাসীর মৃত্যু, শেষবারের মতো দেখতে অপেক্ষায় স্ত্রী ও তিন কন্যা

লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে সৌদি আরবে মারা গেছেন মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার তৈওয়েব আলী (৫৩)। মৃত্যুর সাত দিন পেরিয়ে গেলেও দেশে আসেনি তার মরদেহ। শেষবারের মতো স্বামীর মুখ দেখতে আর বাবাকে একনজর দেখতে অপেক্ষায় রয়েছেন স্ত্রী ও তিন কন্যা।

সৌদি আরবে প্রবাসীর মৃত্যু, শেষবারের মতো দেখতে অপেক্ষায় স্ত্রী ও তিন কন্যা

নিহত তৈওয়েব আলী মহম্মদপুর উপজেলা সদরের পূর্ব নারায়ণপুর গ্রামের মৃত হালিম মোল্যার ছেলে। গত শুক্রবার (১২ জুন) সৌদি আরবের রিয়াদের একটি হাসপাতালে লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন মারা যান তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, উন্নত জীবনের আশায় ২০২৪ সালের শুরুতে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরবে যান তৈওয়েব আলী। ধারদেনা করে বিদেশে যাওয়া এই প্রবাসীর এখনও প্রায় দুই লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। সেখানে তিনি রড মিস্ত্রির কাজ করতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি।

স্বজনরা জানান, মৃত্যুর পর সৌদি আরবে থাকা তার পরিচিতজন ও আত্মীয়রা মরদেহের দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। ফলে দেশে মরদেহ ফিরিয়ে আনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্ত্রী বিউটি বেগম বলেন, ধারদেনা করে আমার স্বামী বিদেশে গিয়েছিলেন। এখনও দুই লাখ টাকার বেশি দেনা রয়েছে। তিন মেয়েকে নিয়ে কীভাবে সংসার চালাবো জানি না। সাতদিন হয়ে গেল, এখনও তার লাশ দেশে আসেনি। কবে আসবে সেটাও জানি না। শুধু শেষবারের মতো স্বামীর মুখটা দেখতে চাই।

স্থানীয়রা জানান, দেশে থাকাকালে তৈওয়েব আলী কৃষিকাজ করে কোনোমতে সংসার চালাতেন। স্ত্রী ও তিন কন্যা সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে জীবিত অবস্থায় আর ফেরা হলো না তার।

মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রি বলেন, তৈওয়েব আলী বৈধ পথে সৌদি আরবে গিয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

এদিকে প্রিয়জনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে শেষ বিদায় জানানোর জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।

Scroll to Top