বিস্ফোরণের ঠিক আগের মুহূর্ত
সুপারনোভা বলতেই আমরা যে ঝলমলে বিস্ফোরণের ছবি কল্পনা করি, তাকে বলা হয় শক ব্রেকআউট। এটি হলো বিস্ফোরণের প্রথম দৃশ্যমান আলো! কিন্তু বাইরে আলো দেখার অনেক আগেই নক্ষত্রের অনেক গভীরে এই শকওয়েভ বা ধাক্কা শুরু হয়ে যায়। সেই ধাক্কা নক্ষত্রের বুক চিরে একেবারে বাইরের পৃষ্ঠে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
দ্বিতীয় গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক উন-ই চেন প্রথমবারের মতো টু-ডাইমেনশনাল মাল্টিগ্রুপ রেডিয়েশন-হাইড্রোডাইনামিক সিমুলেশন ব্যবহার করে এই শক ব্রেকআউটটি পরীক্ষা করেছেন।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সুপারনোভাগুলোর আলোর বক্ররেখা মিলিয়ে দেখেছেন, কিছু কিছু সুপারনোভার শক ব্রেকআউট দেখা দিতে অনেক বেশি সময় লাগে এবং তাদের আলো তুলনামূলক ম্লান হয়। আগে বিজ্ঞানীরা ভাবতেন, নক্ষত্রটি হয়তো তার প্রচুর ভর হারিয়ে ফেলার কারণেই এমনটা ঘটে। কিন্তু উন-ই চেনের গবেষণা বলছে অন্য কথা!
তিনি দেখিয়েছেন, এর মূল কারণ অতিরিক্ত ভর হারানো নয়, বরং রেডিয়েশন প্রিকার্সর এবং নক্ষত্রের চারপাশের ঘন পরিবেশ। শক ওয়েভ বা মূল ধাক্কাটি নক্ষত্রের পৃষ্ঠে পৌঁছানোর আগেই কিছু বিকিরণ সামনের দিকে লিক হয়ে বেরিয়ে যায়। এই বিকিরণগুলো নক্ষত্রের দৃশ্যমান পৃষ্ঠকে ধাক্কা দিয়ে বাইরের দিকে ঠেলে দেয়। একই সঙ্গে নক্ষত্রের চারপাশের ঘন গ্যাসে ফোটন কণাগুলো আটকে গিয়ে আলোর গতি ধীর করে দেয়। আর ঠিক এ কারণেই কিছু কিছু সুপারনোভার শক ব্রেকআউট দেরিতে এবং একটু ম্লান হয়ে আমাদের চোখে ধরা পড়ে।



