বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান “খুব শিগগিরই” দেশে ফিরবেন—এমন আলোচনা থাকলেও তার দেশে প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত একাধিক ছবি ও পোস্ট সম্প্রতি অনলাইনে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে।
ফেসবুকে ডা. জোবায়দা রহমান নামের একটি আনঅফিসিয়াল ফ্যান গ্রুপে আরিন রানা নামের এক ব্যবহারকারী গতকাল ৩ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় দুটি ছবি পোস্ট করে দাবি করেন: “কাতার এয়ারলাইন্সের A-১০১ বিমানে ইতোমধ্যেই দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন জনাব তারেক রহমান। নেতা–কর্মীদের জন্য আছে চমক। ফি আমানিল্লাহ। শুভ কামনা রইলো।”
অথচ ফ্যাক্টচেক অনুসন্ধানে জানা যায়, তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমান এমন কোন মন্তব্য করেননি। এ বিষয়ে মূলধারার গণমাধ্যম বা কোন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকেও একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায়নি।
অপরদিকে, ছবির বিশ্লেষণে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। দুটি ছবিতে পোশাকের রঙ, প্যান্টের ধরন এবং সামগ্রিক চেহারায় পরস্পরবিরোধী উপাদান পাওয়া গেছে। এছাড়া ছবিগুলোতে তারেক রহমানের আসল মুখাবয়বের সঙ্গে অমিল লক্ষ্য করা যায়। তার সাম্প্রতিক ছবিগুলোতে ঠোঁটের উপরে বাম পাশে একটি তিল জাতীয় দাগ দেখা গেলেও আলোচিত ছবি দুটিতে সেই চিহ্ন অনুপস্থিত। ছবিগুলোর অস্বাভাবিক মসৃণতা ও প্রক্রিয়াজাত চেহারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর ডিপফেক প্রযুক্তির লক্ষণ বহন করে।
এ বিষয়টি যাচাই করতে উভয় ছবি ‘AI or Not’ নামক এআই শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্মে পরীক্ষা করা হলে দেখা যায়, দ্বিতীয় ছবিটি শতভাগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা নির্মিত ডিপফেক ছবি হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।
ফ্লাইট-সংক্রান্ত দাবিতেও অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। পোস্টে দাবি করা হয়েছে যে কাতার এয়ারলাইন্সের A১০১ বিমানে তিনি দেশে ফিরছেন। অনুসন্ধানে কাতার এয়ারলাইন্সের A-১০১ নামে কোন ফ্লাইটের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
ফ্লাইট-মনিটরিং ওয়েবসাইট www.flightstats.com-এর তথ্যমতে, কাতার এয়ারওয়েজ-এর QR-১০১ দোহা–জেনেভা রুটে পরিচালিত হয়। এর সর্বশেষ ফ্লাইট ছিল বুধবার রাত ১: ৪৫-এ এবং পরবর্তী ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে শুক্রবার রাত ১: ৩৫-এ।
এ ছাড়া, তারেক রহমানের দেশে ফেরার মতো গুরুত্বপূর্ণ কোন ঘোষণা প্রকাশিত হলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো তা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রচার করত। কিন্তু অনুসন্ধানে এমন কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি যে তিনি দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
এছাড়াও, ৪ ডিসেম্বর প্রকাশিত প্রথম আলো প্রতিবেদন অনুসারে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার জন্য লন্ডনে বাংলাদেশ মিশনের কাছে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ‘ট্রাভেল পাস’ চাননি।
সার্বিক বিশ্লেষণে বলা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত দাবি ও সংযুক্ত ছবিগুলো অসত্য।
সুত্র: ফ্যাক্টচেক, রিউমার স্ক্যানার



