সাংবাদিক শ্যামল, বাবু, রূপা ও শাকিলের আটকাদেশ অব্যাহত: সিজেএর উদ্বেগ | চ্যানেল আই অনলাইন

সাংবাদিক শ্যামল, বাবু, রূপা ও শাকিলের আটকাদেশ অব্যাহত: সিজেএর উদ্বেগ | চ্যানেল আই অনলাইন

বাংলাদেশের সিনিয়র সাংবাদিক সিজেএ সহ-সভাপতি ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল হক বাবু, ফারজানা রুপা এবং একাত্তর টিভির শাকিল আহমেদের আটকাদেশ অব্যাহত রাখার ঘটনায় কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (সিজেএ) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

রোববার (২৮ জুন) এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ জানায় কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন।

বিবৃতিতে সিজেএ জানায়, শ্যামল দত্ত আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশের হাইকোর্টে হাজিরা দেবেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে, যা আমাদের বিশ্বাস, তার সাংবাদিকতার প্রতিশোধ হিসেবে করা হয়েছে। আমরা বাংলাদেশ সরকারকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি তার ঘোষিত অঙ্গীকার এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের আহ্বান জানাই। আমরা এই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলাগুলোর অবিলম্বে পর্যালোচনা, বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ না থাকলে অভিযোগ প্রত্যাহার এবং তাদের দ্রুত মুক্তির দাবি জানাই।

কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন জানায়, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা হত্যা মামলায় আঠারো মাসেরও বেশি সময় ধরে আটক রয়েছেন। প্রায় ৬০০ দিন অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করার জন্য কোনো অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়নি এবং কোনো বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষ্যপ্রমাণও প্রকাশ্যে উপস্থাপন করা হয়নি বলে জানা গেছে। যথাযথ বিচার প্রক্রিয়া ছাড়া এই ধরনের দীর্ঘ আটকাদেশ আইনের শাসন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

এই গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলো সুস্পষ্ট অপরাধমূলক আচরণের চেয়ে অনুমিত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে উল্লেখ করে কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছে। রাজনৈতিক ধারণা বা পেশাগত সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে সাংবাদিকতাকে কখনোই অপরাধ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। তাদের এই অব্যাহত আটকাদেশের মানবিক প্রভাব নিয়ে তারা শঙ্কিত বলেও জানিয়েছে সিজেএ।

বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, শ্যামল দত্ত হৃদরোগ এবং গুরুতর স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো নথিভুক্ত সমস্যায় ভুগছেন, যার জন্য যথাযথ চিকিৎসা প্রয়োজন। ২০২৩ সালের শেষের দিকে মোজাম্মেল হক বাবুর প্রোস্টেট ক্যান্সারের জন্য একটি বড় অস্ত্রোপচার হয়েছিল। কিন্তু তাকে প্রয়োজনীয় ফলো-আপ সেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। উপরন্তু, ফারজানা রূপাকে দুই সপ্তাহের জন্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের জন্য সংরক্ষিত একটি কয়েদি সেলে রাখার খবরটি হেফাজতে থাকাকালীন তার চিকিৎসা ও কল্যাণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন পুনর্ব্যক্ত করছে যে, সকল সাংবাদিক, তাদের সম্পাদকীয় অবস্থান বা রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে, যথাযথ বিচার প্রক্রিয়া, মানবিক আচরণ এবং আইনের পূর্ণ সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী। তাই সিজেএ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, ন্যায়বিচার সুষ্ঠুভাবে, স্বচ্ছভাবে এবং বিলম্বহীনভাবে নিশ্চিত করা হয়।

একটি স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম যেকোনো গণতান্ত্রিক সমাজের একটি অপরিহার্য স্তম্ভ উল্লেখ করে সিজিএ জানায় সময়মতো প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই সাংবাদিকদের ক্রমাগত কারাবাস গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ণ করে এবং বিচার ব্যবস্থার ওপর জনগণের বিশ্বাসকে দুর্বল করে দেয়।

তাই শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল হক বাবু, ফারজানা রূপা এবং শাকিল আহমেদকে মুক্তি দিয়ে ন্যায়বিচার, যথাযথ বিচার প্রক্রিয়া এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার নীতি অনুসারে এই মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছে কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন।

Scroll to Top