মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে দেওরাছড়া বাগানের শ্রমিকেরা ছয় সপ্তাহ মজুরি না পেয়ে কারখানার সামনে বসে ছিলেন। বড়লেখায় দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে গণবিক্ষোভ হয়েছে। ১৬ আগস্ট বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে, তাদের দাবি নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হোক।
একই দিনে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব সাংবাদিকদের বলেছেন, নবম জাতীয় পে স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঘোষণা যেকোনো সময় আসতে পারে।
দুটোই মজুরির খবর, আগস্ট মাসের দুটি খবর পাশাপাশি রাখলে একটা ছবি তৈরি হয়। একটির পেছনে কমিশন আছে, বাজেট বক্তৃতা আছে, গেজেটের অপেক্ষা আছে। অন্যটির পেছনে আছে স্মারকলিপি আর রাস্তায় বসে থাকা।
দুই অঙ্কের দূরত্ব
চা শ্রমিকের নগদ দৈনিক মজুরি এখন ১৭৮ থেকে ১৭৯ টাকা। মাসে ২৬ দিন কাজ করলে হাতে আসে ৪ হাজার ৬৫৪ টাকা। মালিকপক্ষ রেশন, বাসস্থান ও চিকিৎসার আনুমানিক দাম যোগ করে বলে, শ্রমিকের দৈনিক প্রাপ্তি ৪০০ টাকার বেশি। শ্রমিকেরা বলছেন, চালের দোকানে ঘরভাড়ার হিসাব দেখিয়ে চাল কেনা যায় না।
সরকারি চাকরির সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে মূল বেতন এখন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও উৎসব ভাতা। বেতন কমিশনের সুপারিশ ছিল, এই মূল বেতন বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হোক। সর্বোচ্চ গ্রেডে ৭৮ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার।
রাষ্ট্র নিজের কর্মচারীর জীবনযাত্রার খরচ যেভাবে হিসেব করে, বাগানের শ্রমিকসহ বেসরকারি খাতের অন্যদের খরচ নিয়ে সেভাবে ভাবে কি?
সরকারি বেতন কেন বাড়ছে
শুরুতেই একটা কথা পরিষ্কার করা দরকার। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর দাবি অযৌক্তিক নয়।
সর্বশেষ জাতীয় পে স্কেল হয়েছিল ২০১৫ সালে, অষ্টম পে স্কেল। এগারো বছর পার হয়ে গেছে। এই সময়ে বছরে ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট ছাড়া কাঠামোয় কিছু বদলায়নি। ৫ শতাংশ হারে এগারো বছরে বেতন বাড়ে প্রায় ৭১ শতাংশ, আর ওই একই সময়ে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি। অর্থাৎ ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর প্রকৃত আয়ও কমেছে।
সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন ২১ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেয়। সুপারিশ ছিল ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধি, গ্রেড সংখ্যা আগের মতো ২০, আর সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮।
সরকার পুরোটা মানেনি। খসড়ায় সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত মূল বেতন বাড়ানোর কথা আছে, তাও এক বছরে নয়। প্রথম অর্থবছরে মূল বেতনের অর্ধেক, দ্বিতীয় বছরে বাকি অর্ধেক, তৃতীয় বছর থেকে ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা। ১১ জুন বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে কার্যকরের ঘোষণা দেন। আগস্টের মাঝামাঝিতেও গেজেট হয়নি, বিচার বিভাগের ভাতা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
লক্ষ করার বিষয় হলো, দেরি হচ্ছে তর্ক হচ্ছে, তবু পুরো প্রক্রিয়াটা আগাচ্ছে। কমিশনের প্রতিবেদন এসেছে, সচিব কমিটি পর্যালোচনা করেছে এবং বাজেটে টাকা ধরা হয়েছে।
বেসরকারি খাতে ব্যবস্থাটা কী
পোশাক শ্রমিকের নিম্নতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা, কার্যকর হয়েছে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। ঘোষণার সময় বলা হয়েছিল বৃদ্ধি ৫২ থেকে ৫৬ শতাংশ। টিআইবি তখনই হিসাব করে দেখিয়েছিল, বার্ষিক ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট ও মূল্যস্ফীতি ধরলে প্রকৃত বৃদ্ধি ২৫ থেকে ২৯ শতাংশ। এরপর আড়াই বছরে নতুন কোনো মজুরি বোর্ড বসেনি।
চা শ্রমিকের মজুরি স্কেলের প্রজ্ঞাপন হয়েছিল ২০২৩ সালে, ২০২২ সালের আন্দোলনের এক বছর পর। সেখানে দৈনিক ১৬৮ থেকে ১৭০ টাকা ধরে বছরে ৫ শতাংশ বৃদ্ধির কথা বলা হয়। সেই ৫ শতাংশেই মজুরি এখন ১৭৯ টাকা।
কিন্তু সমস্যাটা শুধু এই দুই খাতের নয়।
বেসরকারি স্কুল-কলেজের কর্মচারী, বেসরকারি হাসপাতালের নার্স ও আয়া, দোকান কর্মচারী, রেস্তোরাঁর কর্মী, নিরাপত্তাকর্মী, পরিবহন শ্রমিক, নির্মাণশ্রমিক, গৃহকর্মী, কুরিয়ার ও রাইড শেয়ারিংয়ের চালক, এদের বেতন ঠিক করে দেয় মালিক আর বাজার। কোনো কমিশন নেই, পুনর্বিবেচনার সময়সূচি নেই, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সংযোগ নেই।
গণমাধ্যম নিজেও এর বাইরে নয়। সংবাদপত্রের জন্য ওয়েজ বোর্ড আছে, কিন্তু টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের বড় অংশ তার আওতার বাইরে থেকে গেছে, আর যেখানে আওতা আছে সেখানেও বাস্তবায়ন অনিয়মিত। যে খাত অন্যের মজুরি ও কষ্ট নিয়ে লেখে, সেই খাতের কাঠামোও অস্পষ্ট।
হিসাবটা একটু দেখা যাক
বিবিএসের তথ্য বলছে, জুন মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.১৬ শতাংশ, মে মাসে ৯.৪২ শতাংশ। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত গড় ৮.৬৮ শতাংশ। একই মাসে মজুরি হার সূচকের বৃদ্ধি কৃষিতে ৮.২১, শিল্পে ৮.১১, সেবা খাতে ৮.৩৪ শতাংশ। তিন বছরের বেশি সময় ধরে মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির নিচে।
ফারাকটা ছোট মনে হতে পারে, এক শতাংশের কম। কিন্তু এটা প্রতি বছর জমে।
২০২২ সালের আগস্টে চা শ্রমিকের মজুরি ঠিক হয়েছিল ১৭০ টাকা। এখন ১৭৯ টাকা, বৃদ্ধি ৫ শতাংশের একটু বেশি। ওই চার বছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের আশপাশে ধরলে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশ। সহজ হিসাবে, আজকের ১৭৯ টাকা দিয়ে ২০২২ সালের ১২৫ টাকার সমান জিনিস কেনা যায়।
কাগজে মজুরি বেড়েছে, বাজারে কমেছে।
| কার মজুরি | কত | কবে ঠিক হয়েছে | পরের হিসাব |
|---|---|---|---|
| চা শ্রমিক (নগদ, দৈনিক) | ১৭৮-১৭৯ টাকা | ২০২৩ সালের প্রজ্ঞাপন, ভিত্তি ২০২২ | বছরে ৫% |
| পোশাক শ্রমিক (মাসিক) | ১২,৫০০ টাকা | ডিসেম্বর ২০২৩ | বছরে ৫% |
| অন্যান্য বেসরকারি খাত | নির্ধারিত নয় | কোনো কাঠামো নেই | নেই |
| সরকারি ২০তম গ্রেড (মূল বেতন) | ৮,২৫০ টাকা | জুলাই ২০১৫ | নতুন পে স্কেলে ১২,৩৭৫, পরে আরও |
| সরকারি ১ম গ্রেড (মূল বেতন) | ৭৮,০০০ টাকা | জুলাই ২০১৫ | নতুন পে স্কেলে ১,১৭,০০০ পর্যন্ত প্রস্তাব |
বেসরকারি বেতন কমিশন কেমন হতে পারে
সরকারি চাকরির জন্য যেমন পে কমিশন, বেসরকারি চাকরির জন্য তেমন একটা স্থায়ী কমিশন অবশ্যই জরুরি।
খাত ধরে ধরে আন্দোলনের পর বোর্ড বসানোর বদলে একটাই স্থায়ী কাঠামো, যার কাজ হবে:
– একটা জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঠিক করা, অর্থাৎ একটা মেঝে, যার নিচে কোনো খাতে মজুরি নামতে পারবে না
– খাতভিত্তিক স্কেল ঠিক করা, পোশাক থেকে চা, নির্মাণ থেকে বেসরকারি স্কুল, পরিবহন থেকে শুরু করে গণমাধ্যম
– তিন বছর পরপর নিজে থেকেই পুনর্বিবেচনায় বসা, কেউ দাবি তুললে তবেই বসা নয়
– বার্ষিক বৃদ্ধিকে ৫ শতাংশে বেঁধে না রেখে মূল্যস্ফীতির সূচকের সঙ্গে যুক্ত করা
– নগদ মজুরি আর সুবিধার আনুমানিক দাম আলাদা করে দেখানো বাধ্যতামূলক করা, দুটো এক করে ফেললে হিসাব ঘোলা হয়
– বকেয়া মজুরির সময়সীমা ও জরিমানার নিয়ম রাখা, দেওরাছড়ার ছয় সপ্তাহ যেন আর না ঘটে
কমিশনে থাকবেন মালিক পক্ষ, শ্রমিক পক্ষ, সরকার ও স্বাধীন অর্থনীতিবিদ। প্রতিবেদন প্রকাশ্য হবে, আর বাজেট বক্তৃতায় পে স্কেলের পাশে বেসরকারি মজুরির অগ্রগতিও বলতে হবে।
প্রস্তাবটা নতুন নয়
বেসরকারি খাতের জন্য এই প্রস্তাব কল্পনা থেকে আসা নয়, সরকারের নিজের গড়া কমিশনই এটা দিয়ে গেছে।
অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর বিআইএলএসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদকে প্রধান করে ১০ সদস্যের শ্রম সংস্কার কমিশন গঠন করে। পাঁচ মাস ধরে সারা দেশে শ্রমিক ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে ২০২৫ সালের এপ্রিলে তারা ৪৫৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয়।
সেই প্রতিবেদনের প্রথম সুপারিশটাই ছিল জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ ও একটি স্থায়ী মজুরি কমিশন গঠন। সঙ্গে ছিল তিন বছর পরপর খাতভিত্তিক মজুরি পুনর্বিবেচনা, আর প্রাতিষ্ঠানিক, অপ্রাতিষ্ঠানিক, গৃহকর্মী ও কৃষিশ্রমিক সবাইকে শ্রম আইনের আওতায় আনা। কমিশন প্রধান তখন বলেছিলেন, দেশে আট কোটি শ্রমজীবী মানুষ আছেন, তাঁদের বেশিরভাগেরই আইনি সুরক্ষা নেই।
প্রতিবেদন জমা পড়েছে দেড় বছরের বেশি আগে। শ্রম আইনের সংশোধন হয়েছে, প্রথমে অধ্যাদেশ, পরে ২০২৬ সালের সংশোধনী আইন। কিন্তু স্থায়ী মজুরি কমিশন এখনো দাঁড়ায়নি, জাতীয় ন্যূনতম মজুরিও ঘোষণা হয়নি।
দুটো প্রতিবেদনের ভাগ্য মিলিয়ে দেখলে ছবিটা পরিষ্কার হয়। বেতন কমিশনের প্রতিবেদন জমা পড়েছে জানুয়ারিতে, বাজেটে জায়গা পেয়েছে জুনে। শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা পড়েছে আগের বছর এপ্রিলে, এখনো বাজেটে জায়গা পায়নি।
কেমন আপত্তি আসতে পারে বেসরকারি খাতে
প্রস্তাবের বিরুদ্ধে যুক্তি আসবেই, সেগুলো এড়িয়ে গেলে আলোচনা গণতান্ত্রিক হয় না।
মালিকপক্ষ হয়তো বলবে, সামর্থ্য নেই। ছোট ও মাঝারি কারখানার সামর্থ্য বড় কারখানার মতো নয়, এটা সত্যি। এর উত্তর হতে পারে খাত ও আকার ধরে আলাদা ধাপ, ছোট প্রতিষ্ঠানের জন্য বেশি সময়।
রপ্তানিকারকেরা বলবেন, মজুরি বাড়লে দাম বেড়ে যাবে, ক্রেতা অন্য দেশে চলে যাবে। কথাটা পুরো ফেলে দেওয়া যায় না। তবে ক্রেতার দাম, মালিকের মুনাফা আর শ্রমিকের মজুরি, এই তিনটার হিসাব খোলা রাখলে আলোচনাটা অনুমানের বদলে সংখ্যার ওপর দাঁড়ায়।
কেউ বলবেন, অনানুষ্ঠানিক খাতে আইন বাস্তবায়ন করা যাবে না, পরিদর্শনের লোকবল নেই। ঠিক কথা। কিন্তু একটা ঘোষিত ক্ষেত্র থাকলে সেটা দরকষাকষিতে, আদালতে আর সালিশে রেফারেন্স হিসেবে কাজ করে। এখন সেই রেফারেন্সটাই নেই।
আর কেউ বলবেন, মজুরি বাড়লে মূল্যস্ফীতি বাড়ে। এই যুক্তি সরকারি বেতনের বেলাতেও সমানভাবে খাটে। পে স্কেল নিয়ে যখন এই আশঙ্কা প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায় না, তখন বেসরকারি মজুরির বেলায় সেটা প্রধান বাধা হয় কেন?
বৈষম্যের প্রশ্নটা কোথায়
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শুরু হয়েছিল বৈষম্যের প্রশ্ন নিয়ে। কোটা সংস্কারের দাবি ছিল সরকারি চাকরিতে ঢোকার সুযোগ নিয়ে, অর্থাৎ প্রশ্নটা ছিল রাষ্ট্র কাকে কী দেয় তা নিয়ে।
দুই বছর পর সেই প্রশ্নের একটা উত্তর তৈরি হচ্ছে, আর সেটা নবম পে স্কেল। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে, বাড়া দরকারও ছিল। কিন্তু আট কোটি শ্রমজীবী মানুষের বড় অংশের জন্য একই বাজেটে কোনো রোডম্যাপ নেই কেন?
এখানে কাউকে দোষ দেওয়ার কিছু নেই, বরং আরেকটি প্রশ্ন করা যায়। রাষ্ট্র যখন নিজের কর্মচারীর জন্য মূল্যস্ফীতির হিসাব করে বেতন কাঠামো বানাতে পারে, তখন একই হিসাব চা বাগানের শ্রমিক বা দোকানের কর্মচারীর জন্য করতে বাধা কোথায়?
কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারায় সমাধান পথ
সমাধানের পথ কঠিন নয়। ৫ আগস্টের পরে গঠিত শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ থেকে দুটি বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিলেই হয়, একটি স্থায়ী মজুরি কমিশন আর একটি জাতীয় ন্যূনতম মজুরি। শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন লেখা হয়ে গেছে, আলোচনাও হয়েছে।
৫ আগস্টের পর দেশে নির্বাচন হয়েছে, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। সেই সরকার কল্যাণ রাষ্ট্রের কথা বলছে। গত ১০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সরকারের লক্ষ্য একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, একটি মানবিক রাষ্ট্র যেখানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকার সর্বজনীন হবে, আর একটি কল্যাণ রাষ্ট্র।’ ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জে গিয়েও তিনি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ার কথা বলেছেন।
কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণাটির সবচেয়ে পুরোনো শর্ত একটাই, নাগরিকের আয় যেন জীবনধারণের নিচে না নামে। সেই শর্ত রাষ্ট্র নিজের কর্মচারীদের বেলায় মানার চেষ্টা করছে, পে কমিশন বসিয়ে, মূল্যস্ফীতির হিসাব করেছে বাজেটে টাকা রেখে।
প্রশ্নটা তাই এড়ানো কঠিন। কল্যাণের তালিকায় বাগানের শ্রমিক, দোকানের কর্মচারী, বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক বা কারখানার অপারেটর কোথায় আছেন। জুলাইয়ে যাঁরা রাস্তায় নেমেছিলেন, তাঁদের বড় অংশ তো সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন না।
কল্যাণ রাষ্ট্র কতটা এগোল, তা মাপার একটা সহজ মাপকাঠি আছে। দেশের সবচেয়ে কম মজুরি পাওয়া মানুষটির আয় দিয়ে তাঁর পরিবারের মাসটা চলে কি না, শুধু সেটুকু দেখলেই হয়।
(এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)


