বলিউড অভিনেতা আমির খানের ভাগ্নে ও অভিনেতা ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী ২৮ অক্টােবরের মধ্যে অভিনেতা ইমরান খানকে ভারত ছাড়তে বলেছে মুম্বাই পুলিশ।
জানা গেছে, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে সমর্থন করে প্রতিবাদে যোগ দেওয়ার মাশুল গুনছেন এই অভিনেতা।
ভারতীয় নাগরিক না হয়েও বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় অভিবাসন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ইমরান খানের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কি সত্যিই ইমরান খান ভারতীয় নাগরিক নন?
ইমরান খানের নাগরিকত্ব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে কীভাবে ভারতীয় নাগরিকের বদলে আমেরিকান হলেন তিনি? কীভাবে আমেরিকান নাগরিকত্ব পেলেন তিনি? অনেকের মনেই নিশ্চয়ই এই প্রশ্নগুলো জেগেছে।
মূলত ইমরান খানের বাবা অনিল পাল একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ছিলেন এবং তার মা নুঝাত খান আমির খানের কাকাত বোন ও একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।
তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনের ম্যাডিসনে জন্মগ্রহণ করেন। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, আমেরিকার মাটিতে জন্মগ্রহণকারী প্রত্যেক শিশু জন্মসূত্রে আমেরিকান নাগরিকত্ব লাভ করে। এই নিয়ম অনুসারে, ইমরান খান জন্মসূত্রে আমেরিকান নাগরিক হন।
ইমরান খানের যখন মাত্র দেড় থেকে দুই বছর বয়স, তখন তার বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর তার মা তাকে মুম্বাইয়ে নিয়ে আসেন। যেহেতু তার মা-ই ছিলেন তার একমাত্র অভিভাবক, তাই তিনি তার বাবার পদবি ‘পাল’ পরিবর্তন করে মায়ের পদবি ‘খান’ গ্রহণ করেন।
ইমরান খানের প্রাথমিক শিক্ষা মুম্বাইয়ের বোম্বে স্কটিশ স্কুলে এবং পরে তামিলনাড়ুর কুনুরের একটি বোর্ডিং স্কুলে সম্পন্ন হয়। স্কুলজীবন শেষ করে ইমরান খান কিছু সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী তার বাবার সঙ্গে থাকার জন্য ক্যালিফোর্নিয়ায় ফিরে গিয়েছিলেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক ফিল্ম অ্যাকাডেমিতে চলচ্চিত্র নির্মাণ ও অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা করেন। পড়াশোনা শেষ করে তিনি ভারতে ফিরে আসেন এবং মুম্বাইয়ের কিশোর নমিত কাপুর অ্যাক্টিং ইনস্টিটিউটে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন।
১৯৮৮ সালে ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তাক’ এবং ১৯৯২ সালে ‘জো জিতা ওহি সিকান্দার’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করার পর, ২০০৮ সালে ‘জানে তু… ইয়া জানে না’ ছবির মাধ্যমে তিনি প্রধান অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

