ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের জাতীয় সংসদের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দ্বিতীয়বার শপথ গ্রহণের পরিকল্পনা নিয়ে আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, বিদ্যমান সংবিধানে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথের বিধান থাকলেও সংস্কার পরিষদ নামে কোনো সাংবিধানিক কাঠামোর অস্তিত্ব নেই।
সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুটি শপথ গ্রহণ করবেন। এর মধ্যে একটি হবে সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের অধীনে সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর অধীনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে।
তবে এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন বিশিষ্ট আইনজীবীরা। সিনিয়র আইনজীবী শাহদীন মালিক, আহসানুল করিম এবং মনজিল মুরশিদ পৃথক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, দ্বিতীয় শপথের কোনো সাংবিধানিক বা আইনি ভিত্তি নেই।
তাদের মতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ‘অবৈধ’ এবং বর্তমান সংবিধানের অধীনে রাষ্ট্রপতির এমন কোনো আদেশ জারির ক্ষমতা নেই। তারা যুক্তি দেন, অতীতে কেবল তখনই রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশ জারি করা হয়েছে, যখন সংবিধান স্থগিত ছিল বা কার্যকর ছিল না।
আইন বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরও সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত বা বাতিল করা হয়নি। ফলে বর্তমান সংবিধান বহাল থাকা অবস্থায় নতুন কোনো সাংবিধানিক কাঠামোর জন্য পৃথক শপথের বিধান তৈরি করা আইনসম্মত নয়।
তাদের ভাষায়, জনগণ সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নয়। তাই এ ধরনের দ্বিতীয় শপথ সাংবিধানিক বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।



