ভারতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি দমন-পীড়নের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এদিকে আজ ককরোচ জনতা পার্টি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওয়ের পরিবর্তে সংসদ এলাকাকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে।
আজ (২২ জুলাই) বুধবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি অভিযানের ঘটনায় ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার ভারতের রাজধানী দিল্লিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবন লোক কল্যাণ মার্গের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রাসহ একাধিক বিরোধী নেতাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরে রাতেই তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
আটক অবস্থায় প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো, ১) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। ২) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার। ৩) ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি দমন-পীড়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা। ৪) বিষয়টি নিয়ে লোকসভা ও রাজ্যসভায় পূর্ণাঙ্গ আলোচনা। এবং ৫) শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ব্যবস্থার দ্রুত সংস্কার।
রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিকে দমন করতে সরকার বলপ্রয়োগ করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে, কেন শিক্ষা এত ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে এবং কেন সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়ছে। বিরোধী জোটের সব দল বুধবার সংসদের উভয় কক্ষে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার দাবি জানাবে এবং শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে আন্দোলন অব্যাহত রাখবে।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান কংগ্রেসের সমালোচনা করে বলেন, শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের চেয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়াই দলটির মূল উদ্দেশ্য। সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার পথ খোলা থাকা সত্ত্বেও কংগ্রেস সংঘাতের রাজনীতি বেছে নিয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ককরোচ জনতা পার্টি আজও আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। তবে গতকালের মতো প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওয়ের পরিবর্তে আজ তাদের কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু সংসদ ভবন, জন্তর মন্তর এবং দিল্লির বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক বিক্ষোভ।




