শেষ কবে বাবার সঙ্গে বসে একটা সিনেমা দেখেছেন? | চ্যানেল আই অনলাইন

শেষ কবে বাবার সঙ্গে বসে একটা সিনেমা দেখেছেন? | চ্যানেল আই অনলাইন

একটা সময় ছিল, যখন সিনেমা মানেই ছিল পরিবার, বন্ধুত্ব, দায়িত্ব কিংবা সম্পর্ক নিয়ে দারুণ সব গল্প! বাবা-সন্তানের সম্পর্ক নিয়েও পৃথিবীতে বহু কালজয়ী সিনেমা নির্মিত হয়েছে। কিন্তু এখন সময় বদলেছে! বক্স অফিস দখল করে আছে সুপারহিরো, অ্যানিমেশন আর তরুণ দর্শকের জন্য নির্মিত নানা জনরার সিনেমা!

তারমধ্যেও বিভিন্ন দিবস কেন্দ্রিক বিশেষ দিনগুলো অনেকেই অনুভূতির গল্পে ফেরেন। নিজেকে সেই সব গল্প সিনেমায় সঁপে দেন, নস্টালজিক হন- তাদের জন্য এবারের বাবা দিবস হতে পারে অনুভূতিপ্রবণ কিছু সিনেমার সঙ্গে! বিশেষ এই দিনে বাবার সঙ্গে বসে দেখে ফেলতে পারেন দারুণ কিছু সিনেমা!

ভেবে দেখুন তো, শেষ কবে বাবার সঙ্গে বসে একটা সিনেমা দেখেছেন? হয়তো আপনার বাবা সিনেমাপ্রেমী নন। হয়তো তিনি পুরো সিনেমা দেখে বলবেন, ‘আগের সিনেমাগুলো ভালো ছিল।’ হয়তো মাঝপথে ঘুমিয়ে পড়বেন। তবু একসঙ্গে বসে থাকা, মাঝেমধ্যে কথা বলা, কোনো দৃশ্য দেখে হেসে ওঠা- এই ছোট মুহূর্তগুলোই থেকে যায়। ফাদার্স ডে-তে বাবাকে শুধু শুভেচ্ছা নয়- সময় দিন। হয়তো একটা সিনেমাই অনেক দিনের দূরত্ব কমিয়ে দিতে পারে।

ফিচারে উল্লেখিত তালিকার সিনেমাগুলো শুধু ‘বাবাদের সিনেমা’ নয়, এগুলো সম্পর্কের সিনেমা। কোথাও বাবা সন্তানকে বদলে দেন, কোথাও সন্তান বাবাকে নতুন করে চিনতে শেখে, কোথাও আবার বোঝা যায় সব বাবা নিখুঁত নন, তবু তারা স্মরণীয়। এমন সব সিনেমাগুলোর কথা থাকলো ফিচারে-

 

বিগ ডেডি (১৯৯৯)

দায়িত্ব মানুষকে বদলে দেয়—ভালোবাসা শেখায়। একজন মানুষ, যার নিজের জীবনই গুছানো নয়, সে হঠাৎ এক শিশুর দায়িত্ব নেয়। শুরুটা অভিনয়, পরে সেটাই হয়ে ওঠে বাস্তব। অ্যাডাম স্যান্ডলারের এই চলচ্চিত্র মজার হলেও এর ভেতরে আছে বড় এক সত্য—বাবা হওয়া জন্মগত নয়, অনেক সময় সেটা শেখা লাগে।

ইন্ডিয়ানা জোনস এন্ড দ্য লাস্ট ক্রুসেড (১৯৮৯)
অ্যাডভেঞ্চারের গল্প মনে হলেও এটি মূলত বাবা-ছেলের সম্পর্ক নিয়ে তৈরি এক অসাধারণ সিনেমা। বাবারা সবসময় অনুভূতি প্রকাশ করেন না। অনেক সময় তাদের ভালোবাসা থাকে পরামর্শে, শাসনে, কিংবা অদ্ভুত নীরবতায়। সিনেমাটি সেই দূরত্বের ভেতরের সম্পর্কটাকে তুলে আনে।

ফিল্ড অব ড্রিমস (১৯৮৯)
একজন মানুষ খেলার মাঠ বানায়। আর সেই মাঠে ফিরে আসে অতীত। বেসবলকে কেন্দ্র করে তৈরি হলেও এটি আসলে অসমাপ্ত সম্পর্ক, না বলা কথা আর বাবাকে নতুন করে ফিরে পাওয়ার গল্প। যারা কখনও বাবাকে কিছু বলতে পারেননি তাদের জন্য এই সিনেমা অন্যরকম অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

দ্য গডফাদার (১৯৭২)

সিনেমার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী চলচ্চিত্রগুলোর একটি। এখানে বাবা মানে শুধু অভিভাবক নন, তিনি সিদ্ধান্ত, মূল্যবোধ, ক্ষমতা আর ভবিষ্যতের নির্মাতা। এটা শুধু গ্যাংস্টার সিনেমা নয়। একজন বাবা কীভাবে পরিবার গড়ে এবং সন্তানদের ওপর তার ছায়া কত দূর পর্যন্ত যায়- সেই গল্প বলে।

টেকেন (২০০৮)
সন্তানের জন্য বাবা কতো দূর যেতে পারেন? এই প্রশ্নের উত্তর যদি খুঁজতে চান, তাহলে দেখে ফেলতে পারেন এই সিনেমা। একজন বাবা, যিনি সব হারাতে রাজি কিন্তু মেয়েকে হারাতে রাজি নন।

ডটারস (২০২৪)
সব সন্তান বাবাকে কাছে পায় না, তবু ভালোবাসার কোনো কমতি হয় না। এটি একটি ডকুমেন্টারি। হয়তো এই তালিকার সবচেয়ে আবেগী কাজ। কারাগারে থাকা বাবাদের সঙ্গে মেয়েদের সম্পর্ক নিয়ে তৈরি এই সিনেমা দেখায়, ভালোবাসা সবসময় নিখুঁত হয় না। ক্ষমা, অনুশোচনা আর পুনর্মিলনের গল্প বলে এই ডকুফিল্ম।

মি. মম (১৯৮৩)
সংসার চালানোও এক ধরনের সুপারপাওয়ার। বাবারা অনেক সময় বুঝতেই পারেন না প্রতিদিনের ছোট কাজগুলো কত বড় দায়িত্ব। এই সিনেমা হাসতে হাসতেই সেই উপলব্ধি এনে দেয়।

পেপার মুন (১৯৭৩)
পরিবার রক্তে নয়, সম্পর্কে তৈরি হয়। বাবা-মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে তৈরি সবচেয়ে কোমল চলচ্চিত্রগুলোর একটি। নীরবতা, ভ্রমণ আর ধীরে ধীরে তৈরি হওয়া সম্পর্ক- সব মিলিয়ে অসাধারণ অভিজ্ঞতা। ইস্কোয়ার.কম

Scroll to Top