মনীষীরা বরাবরই মাতৃভাষায় শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশ্বায়ন, নব্য উদারনৈতিকতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শিক্ষা ও গবেষণার ধরন পাল্টে গেছে। সেখানে মাতৃভাষা চর্চার প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি স্বীকার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে মাতৃভাষার চর্চার গুরুত্ব বাড়াতে হবে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার চর্চা আরও কীভাবে বাড়ানো যায়, সেই লক্ষ্যেও কাজ করে যেতে হবে। অহেতুক, অপ্রয়োজনীয় ও অযাচিতভাবে ইংরেজি ভাষার ব্যবহার নিয়েও আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
উদ্বেগের বিষয় হলো, পাকিস্তান আমলে ভাষার প্রতি বাঙালির যে তীব্র আবেগ ও উদ্দীপনা ছিল, তা এখন অনেকটা আনুষ্ঠানিকতায় পর্যবসিত হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নামফলক থেকে শুরু করে দৈনন্দিন আলাপচারিতায় ইংরেজি ব্যবহারের একধরনের অহেতুক প্রবণতা আমাদের গ্রাস করছে। আকাশ-সংস্কৃতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গ্যাজেট ব্যবহারে প্রতিবেশী দেশের বিভিন্ন ভাষার প্রভাবও শিশুদের ওপর পড়ছে। সে ক্ষেত্রেও আমাদের সচেতন থাকতে হবে। আমরা অন্য ভাষা শিখব, কিন্তু মাতৃভাষাকে অগ্রাহ্য করে নয়।



