শীতের আলসেমি কাটাতে ভরসা রাখুন যোগাসনে

আপাত দৃষ্টিতে রক্তস্বল্পতাকে খুব বড় কোনও রোগ বলে মনে না হলেও, যে কোন বড় ধরনের অসুখের শুরু হতে পারে এই রক্তাল্পতা থেকেই। কারণ রক্তস্বল্পতা মারাত্মক পর্যায়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত একে তেমন ক্ষতিকর কোনও সমস্যা বলে মনে করেন না অনেকেই। কিন্তু এই অবহেলা অনেক সময় মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তাই প্রথম থেকেই রক্তস্বল্পতাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকলে তাকে রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা বা এনেমিয়া বলা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে অনেক মানুষ রক্তস্বল্পতা রোগে ভোগে। বিশেষ করে যারা পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত তাদের রক্তস্বল্পতার প্রবণতা বেশি হয়। রক্তস্বল্পতা রোগের চিকিৎসার জন্য প্রথমে পরিবর্তন আনতে হবে আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায়। যেসব খাবারের রক্তস্বল্পতা দূর করার ক্ষমতা রয়েছে সেসব খাবার খেতে হবে নিয়মিত।

রক্তস্বল্পতা হলে কি কি শারীরিক সমস্যা হয়
দুর্বলতা, মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা, চোখে অন্ধকার দেখা, অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠা, বুক ধড়ফড় করা, মাথা ঝিমঝিম করা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, কাজকর্মে অনীহা, অনিদ্রা, অল্পতে মনোযোগ নষ্ট হওয়া, জিহ্বা ও ঠোঁট মসৃণ ও সাদাটে হয়ে যাওয়া, মুখের কোনায় ও জিহ্বায় ঘা হওয়া, নখে ভঙ্গুরতা বা চামচের মতো গর্ত হওয়া, অরুচি, বমি বমি ভাব, হজমে ব্যাঘাত ঘটা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

মূলত শরীরে আয়রনের অভাব থেকেই এই সমস্যা বাড়তে থাকে। তাই রক্তস্বল্পতা সমস্যা দূর করতে শরীরে আয়রনের পরিমাণ বা ভারসাম্য সঠিক রাখা প্রয়োজন। আর এজন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। আসুন জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু সহজলভ্য খাবার সম্পর্কে যা রক্তস্বল্পতার হাত থেকে রক্ষা করবে আপনাকে।

১) চীনাবাদাম
রক্তস্বল্পতার হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রতিদিন চীনাবাদাম খাওয়া জরুরি। চীনাবাদামে থাকা আয়রন রক্তস্বল্পতার সমস্যাকে দূরে রাখে।

২) ডিম
প্রতিদিন একটি করে ডিম খাওয়ার অভ্যাস করলে শরীরে আয়রনের ঘাটতি বা রক্তস্বল্পতা থেকে দূরে থাকা যাবে সহজেই। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম রাখুন।


৩) খেজুর

খেজুরে রয়েছে ভরপুর আয়রন। রক্তস্বল্পতার সমস্যা দূর করতে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় খেজুর রাখতে পারেন।

৪) টমেটো
রক্তস্বল্পতা দূর করতে টমেটো খুবই কার্যকরী। টমেটোয় থাকা আয়রন, ভিটামিন সি এবং লাইকোপেন রক্তস্বল্পতাসহ নানা রোগের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করতে সক্ষম।

৫) মধু

মধু রক্তস্বল্পতার সমস্যা দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী। চিনির পরিবর্তে খাবারে মধু যোগ করতে পারেন। এতে চিনির ক্ষতিকর প্রভাব থেকেও বাঁচা যাবে আবার রক্তস্বল্পতা সমস্যাও দূর হবে।


 ৬) কলিজা
কলিজায় প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ভিটামিন বি আছে। রক্তস্বল্পতা রোগের প্রধান কারণ দেহে আয়রনের ঘাটতি। তাই রক্তশূন্যতায় ভুগছেন যারা তাদের নিয়মিত খাবার তালিকায় সম্ভব হলে কলিজা রাখা উচিত। খাসি বা গরুর কলিজায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। তবে যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তাদের অবশ্যই গরুর কলিজা থেকে দূরে থাকতে হবে।

৭) দুধ
দুধ শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও প্রোটিন যোগাতে সাহায্য করে। দুধে খুব বেশি পরিমাণে আয়রন না থাকলেও এতে প্রায় সব রকমের ভিটামিন আছে। এছাড়াও দুধে আছে পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়াম। এই খাদ্য উপাদানগুলো রক্তের হিমোগ্লোবিন বাড়িয়ে রক্তশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে। তাই রক্তশূন্যতার রোগীদের জন্য নিয়মিত দুধ খাওয়া উপকারী।

 

তথ্যসূত্র- জি২৪ ঘণ্টা

Scroll to Top