অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজে প্রথমটিতে বাজে হারের পর দ্বিতীয়টিতে লড়েও জয় তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। বড় লক্ষ্যের পিছু ছুটে আশা জাগিয়ে ৭ রানের হার নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তাওহীদ হৃদয়ের দল। এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জিতে নিলো সফরকারী অজিরা।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে শুক্রবার টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অজি অধিনায়ক মিচেল মার্শ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রান সংগ্রহ করে তারা। যা স্বাগতিকদের বিপক্ষে তাদের সর্বোচ্চ রান, আগে ছিল ৩ উইকেটে ১৫৮। জবাবে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮৯ রানে পৌঁছাতে পারে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটা ছিল দারুণ। দুই ওপেনার তানজিদ ও সাইফ ঝড়ো শুরু করেন। পাওয়ার প্লে’তে বাংলাদেশ ৭২ রান পায়। হারায় ১ উইকেট। তানজিদ ৪ চার ও ১ ছক্কায় ১৫ বলে ৩০ রান করে আউট হন। সাইফ এক প্রান্ত আগলে রানের চাকা সচল রাখেন। তিনে নেমে সৌম্য ৩ চারে আত্মবিশ্বাসী শুরু করলেও ১৫ রানের বেশি করতে পারেনি।
তৃতীয় উইকেটে পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ যেভাবে ব্যাটিং করছিলেন মনে হচ্ছিল এই জুটিতেই বাংলাদেশ জয়ের বন্দরে পৌঁছে যাবে। ৩৬ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন তারা। ইমন ক্রিজে গিয়েই আগ্রাসী মনোভাবে ব্যাটিং করেন। নবম ওভারে জাম্পাকে পরপর দুই বলে দুই ছক্কা হাঁকান। এরপর ডেভিসকেও বিশাল ছক্কা উড়ান লং অফ দিয়ে। ম্যাচ যখন লাল-সবুজদের হাতের মুঠোয় আসা শুরু করলো তখনই বিপদ ডেকে আনেন থিতু হওয়া দুই ব্যাটার পারভেজ হোসেন ও সাইফ হাসান। দুজন ৪ রানের ব্যবধানে পরপর দুই ওভারে আউট হলে বাংলাদেশ চাপে পড়ে।
পারভেজ ২২ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৬ রানে হার্ডির বলে আউট হন। সাইফ ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩৩ বলে করেন ৪২ রান। এরপর হৃদয় চেষ্টা করেন, তবে তার শুরুটা ধীরগতির হওয়ায় শেষপর্যন্ত আর রান তোলার সমীকরণ আর মেলাতে পারেননি তিনি। তাকে কিছুটা সঙ্গ দেন শামীম।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য ২৩ রান দরকার ছিল বাংলাদেশের। প্রথম ৩ বলে কোন বাউন্ডারি ছাড়া ৫ রান পায় বাংলাদেশ। পরের বলে ছক্কা মেরে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন তাওহীদ। শেষ ২ বলে দরকার ২ ছক্কা। কিন্তু তাওহীদ পঞ্চম বলে বড় শট হাঁকালেও ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় বাউন্ডারিতে। শেষ বলে ৮ রানের প্রয়োজনে তাওহীদের শট সীমানায় ধরা পড়ে যায়।
অজিদের হয়ে অ্যারন হার্ডি ৪ ওভারে ৪০ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। এছাড়া একটি করে উইকেট শিকার করেছেন নাথান একিস, রেনশ, জাম্পা ও জোয়েল ডেভিস।
এর আগে দলীয় ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও ম্যাচের হাল ধরেন রেনশ ও টিম ডেভিট। ৪ চার ও ৫ ছক্কায় ৫২ বলে ৮৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন রেনশ। তার সঙ্গে দারুণ ক্যামিও ইনিংস খেলেন টিম। ২৬ বলে ৪৫ রান করে আউট হন।
অধিনায়ক মিচেল মার্শ ২০, জস ইংলিশ ১১ ও জোয়েল ডেভিসের ব্যাটে আসে ১৩ রান। শেষপর্যন্ত দুইশর কাছে পৌঁছে থামে অজিদল।
বাংলাদেশের হয়ে ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন নাসুম আহমেদ। একটি করে উইকেট নেন সাকলাইন, নাহিদ রানা ও মোস্তাফিজুর রহমান।


