
লন্ডন, ১৬ সেপ্টেম্বর- রাশিয়ার ‘হাইব্রিড হামলা’ মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ক্রেমলিনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা ক্যালাস। এর মধ্যে রুশ নাগরিকদের পর্যটন ভিসা দেওয়ার বিষয়টিও নতুন করে বিবেচনা করা উচিত বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার তিনি এসব কথা বলেন।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে ক্যালাস বলেন, ‘যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ চললেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসী যুদ্ধ এবং ইউরোপের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করার পথ বেছে নিয়েছেন। একটি বিষয় চেষ্টা হিসেবে রাশিয়ার ‘ধারাবাহিক হাইব্রিড হামলা বৃদ্ধি’ নিয়ে ইউরোপ উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে বল খুবই স্পষ্ট—পুতিনকে থামানো না হলে তিনি থামবেন না।’ খবর এএফপির।
তিনি বলেন, ‘তাই রাশিয়া যখন আরও বড় ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত, তখন ইউরোপকেও এর জন্য আরও চড়া মূল্য দিতে হবে।’
ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন দুর্বল করার চেষ্টা হিসেবে রাশিয়ার ‘ধারাবাহিক হাইব্রিড হামলা বৃদ্ধি’ নিয়ে ইউরোপ উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে বলেও উল্লেখ করেন ক্যালাস।
গ্রীষ্মকালে জার্মানির একটি বিমানবন্দরে বিস্ফোরকবোঝাই একটি ড্রোন পাওয়ার পর এ উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। ওই ঘটনার জন্য বার্লিন মস্কোকে দায়ী করে।
কিয়েভের প্রতি সমর্থন বাড়ানো এবং ক্রেমলিনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি ইইউভুক্ত দেশগুলোতে প্রবেশকারী রুশ নাগরিকদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে জানান ক্যালাস।
তিনি বলেন, ‘শেনজেন এলাকায় রুশ কূটনীতিকদের চলাচলের ওপর আমরা আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারি। রাশিয়ার সাবেক যোদ্ধাদের ভিসা দেওয়া নিষিদ্ধ করতে পারি। রুশ নাগরিকদের পর্যটন ভিসা দেওয়ার বিষয়টিও আমাদের পুনর্বিবেচনা করা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইউরোপের মাটিতে হামলা চালানো ব্যক্তিদের পরিধি আমাদের কমাতে হবে।’
রুশ অপতথ্য মোকাবিলায় ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আরও কার্যকরভাবে বিনিময় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বানও জানান ক্যালাস।
ইইউ যখন আরও পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে, তখন কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন যে প্রকাশ্য সংঘাতের আড়ালে থাকা ধূসর এলাকায় মস্কোর কর্মকাণ্ড ঠেকাতে পশ্চিমা দেশগুলোকে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে সোমবার বলেন, ‘হাইব্রিড কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় সব ধরনের জবাব দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা যা করি, তা সব সময় দৃশ্যমান ও প্রকাশ্য হবে না।’
তিনি বলেন, ‘অবশ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইউক্রেন যাতে লড়াই চালিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় সবকিছু পায়, তা নিশ্চিত করা।’
এস এম/ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


