এক-এগারোর পর কেন প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নেননি? কোন প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়েছিলেন ফখরুদ্দীন আহমদ? গ্রেপ্তারের পর তারেক রহমানকে অমানবিক নির্যাতনের জন্য দায়ী কারা? রিমান্ডে গোয়েন্দা হেফাজতে এক-এগারোর অন্যতম কুশীলব জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক শেখ মামুন খালেদকে এসবসহ নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও এক-এগারোর অন্যতম কুশীলব অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে অর্থ ও মানব পাচার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরেক সেনা কর্মকর্তা, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মিরপুরে ফল ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায়। শেখ হাসিনার শাসনামলের আগেও এক-এগারোর সময় তিনি ডিজিএফআইতে দায়িত্বে ছিলেন।
রিমান্ডে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সংশ্লিষ্ট মামলা ছাড়া আর কী কী বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে?
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তার কাছে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সরিয়ে সেনা-সমর্থিত সরকার গঠনের নেপথ্য ঘটনা, প্রেক্ষাপট ও পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছে গোয়েন্দা পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে জেনারেল মাসুদ বলেন, তৎকালীন তিন বাহিনীর প্রধানসহ পাঁচ সেনা কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনকে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব ছাড়তে চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। সেখানে তিনি উপস্থিত ছিলেন না; পরে একটি চা-চক্রে যোগ দেন।
জেনারেল মাসুদ জানিয়েছেন, এক-এগারোর সময় প্রথমে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব নিতে তিনি রাজি হননি। পরে ফখরুদ্দীন আহমেদকে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, আরাফাত রহমান কোকো এবং শেখ হাসিনাকে তৎকালীন সরকারের নির্দেশে গ্রেপ্তারের কথা জানান তিনি। তবে এ ক্ষেত্রে নিজের ভূমিকা অস্বীকার করেছেন, সে সময় কথিত গুরুতর অপরাধ দমন জাতীয় সমন্বয় কমিটির দায়িত্বে থাকা জেনারেল মাসুদ।
গ্রেপ্তার হওয়া দুই জেনারেলই এক-এগারোর পর তারেক রহমানকে নির্যাতনের বিষয়ে দায় অস্বীকার করেছেন। জেনারেল মাসুদ গোয়েন্দাদের কাছে দাবি করেছেন, নির্যাতনের খবর পেয়ে পরদিন তিনি এ বিষয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধানের সামনে প্রতিবাদ করেছিলেন।
তৎকালীন সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এক পর্যায়ে বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে ১৩টি শর্ত দিয়েছিল। মুক্তির জন্য শেখ হাসিনা শর্তগুলো মেনে নিলেও খালেদা জিয়া তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বলে জানিয়েছেন সাবেক দুই জেনারেল।
জেনারেল মাসুদ আরও জানিয়েছেন, পরবর্তী সরকার কীভাবে গঠন করা হবে, তা নিয়ে আলোচনার জন্য মেজর হুমায়ুন নামের এক কর্মকর্তা প্রতি বৃহস্পতিবার শেখ হাসিনাকে গুলশানে ডিজিএফআইয়ের একটি সেফ হাউসে নিয়ে যেতেন। তবে এমন আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।
এক-এগারোর সরকারে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা প্রসঙ্গে জেনারেলরা বলেন, সব দেশেরই কিছু না কিছু ভূমিকা থাকে। তবে এ বিষয়ে তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
জেনারেল মাসুদ উদ্দিন ও জেনারেল মামুন খালেদকে এখন পর্যন্ত আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে তাদের একসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।




