‘আমার নেতা খাইরুল দেওয়ানকে রাষ্ট্রপতি পদে দেখতে চাই’- চ্যানেল আই অনলাইনের একটি সিরিয়াস ফটোকার্ডের নিচে হাস্যরস আর ব্যাঙ্গাত্মক দাবির ঝড় উঠেছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবরের পর একটি ফটোকার্ডের শিরোনাম ছিল, রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাকে দেখতে চান? অনেকেই বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নাম বললেও বড় একটি অংশ জানাচ্ছেন- তারা রাষ্ট্রপতি পদে খাইরুল দেওয়ানকে দেখতে চান। কেন আসলো খাইরুলের নাম? শুধু এবার নয়, বারবারই রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গ আসলেই কী কারণে সবসময় আলোচিত হন খাইরুল দেওয়ান? কে এই খাইরুল?
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খাইরুল দেওয়ান নামের উত্থান বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সময় থেকেই। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে মো. সাহাবুদ্দিন যখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, তখন এই পদে খাইরুলও নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তাকে মনোনয়ন ফরম দেয়নি। মনোনয়ন ফরম না দেওয়ায় আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন খাইরুলসহ তিন ব্যক্তি। এছাড়াও তারা রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন করতে আইনি প্রক্রিয়ায় লড়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন।
‘এরপর সংবাদ সম্মেলন থেকে শুরু করে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়ার জন্য ব্যানার নিয়ে দিনের পর দিন পড়ে ছিলেন খাইরুল দেওয়ান। সোশ্যাল মিডিয়ায় দিনের পর দিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে চেয়ে তার আবদার ও কথাগুলো হাস্যরসের জন্ম দেয়। এটাকেই লুফে নিয়েছেন ফেসবুক ও ইউটিউব ব্যবহারকারীরা,’ এরকম মন্তব্য একজন ফেসবুকারের।
তবে তিনি এটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তার উপর হামলাও হয়েছিল।

তখন খাইরুল দেওয়ান ব্যর্থ হলেও হাল ছেড়ে দেননি। পরবর্তীতে স্বঘোষিত জনকল্যাণ পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দলও খোলেন তিনি। রাজনৈতিক দলের ব্যানারে বা নামে-বেনামে তিনি রাজধানীর পল্টন মোড় থেকে শুরু করে তোপখানা-হাইকোর্ট-গুলিস্তানসহ নানা জায়গায় রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী বলে বিভিন্ন সময় বক্তব্য দিতে থাকেন। এতে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা মজা করে তাকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী নেতা হিসেবে অভিহিত করা শুরু করেন। গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে রাষ্ট্রপতির পদ খালি না থাকায় প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচন করার কথাও জানিয়েছিলেন খাইরুল দেওয়ান। সেগুলো নিয়েও সেসময় নানা ধরনের ট্রোল হয়েছিল। ওই ট্রোলের সূত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি ‘প্রিয় নেতা’ বলেও পরিচিত। এ কারণেই রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে সবাই খাইরুল দেওয়ানের নাম মেনশন করছেন।
এক ভিডিওতে খাইরুল দেওয়ানকে বলতে শোনা যায়, তার দাদার বাড়ি ছিল লৌহজং, মুন্সিগঞ্জ। মুক্তিযুদ্ধের পর দাদার বাড়ি ভেঙে গিয়েছিল। তার আব্বা সরকারি চাকরি করতেন, সেজন্য বিভিন্ন জেলা ও থানায় সরকারি কোয়ার্টারে বড় হয়েছেন। এখন তার বাড়ি কেরানীগঞ্জ দক্ষিণের আব্দুল্লাহপুর কুচিয়ামোড়া এলাকায়।


