রাষ্ট্রপতির প্রটোকলে বড় কাটছাঁট: বিমানবন্দরে উপস্থিতি ১৩ থেকে নেমে এল ৭ জনে – DesheBideshe

রাষ্ট্রপতির প্রটোকলে বড় কাটছাঁট: বিমানবন্দরে উপস্থিতি ১৩ থেকে নেমে এল ৭ জনে – DesheBideshe


রাষ্ট্রপতির প্রটোকলে বড় কাটছাঁট: বিমানবন্দরে উপস্থিতি ১৩ থেকে নেমে এল ৭ জনে – DesheBideshe

ঢাকা, ৯ মে – রাষ্ট্রীয় আচার বা প্রটোকলে বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে বর্তমান সরকার। রাষ্ট্রপতির বিদেশযাত্রা এবং বিদেশ সফর শেষে দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ব্যক্তিদের তালিকা উল্লেখযোগ্যভাবে সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গত ৪ মে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে পাঠানো এক চিঠিতে এই নতুন নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১৬ মে রাষ্ট্রপতির যাতায়াতের সময় প্রটোকল সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। সেই নিয়ম অনুযায়ী, বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে বিদায় জানাতে বা স্বাগত জানাতে সিভিল ও সামরিক মিলিয়ে মোট ১৩ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা ছিল।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেই তালিকা থেকে ৬ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন মাত্র ৭ জন পদস্থ ব্যক্তি।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির বিমানবন্দর কেন্দ্রিক রাষ্ট্রাচারে নিচের ৭ জন ব্যক্তি উপস্থিত থাকবেন:

১. মন্ত্রিসভার একজন মনোনীত সদস্য (মন্ত্রী)।
২. ডিপ্লোমেটিক কোরের প্রধান (ডিন অব দ্য ডিপ্লোমেটিক কোর)।
৩. স্বাগতিক দেশের (যে দেশে রাষ্ট্রপতি যাচ্ছেন) মিশন প্রধান।
৪. প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব।
৫. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব।
৬. রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জন বিভাগের সচিব।
৭. রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রাচার (প্রটোকল) প্রধান।

প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ থাকতে পারে:

  • কর্মঘণ্টা সাশ্রয়: বিমানবন্দরে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দীর্ঘক্ষণ উপস্থিত থাকার ফলে তাদের দাপ্তরিক কাজে যে স্থবিরতা তৈরি হতো, তা কমাতেই এই কাটছাঁট।
  • ট্রাফিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা: বিমানবন্দরে ভিড় কমিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো এই পদক্ষেপের অন্যতম লক্ষ্য।
  • মিতব্যয়িতা: বিশাল প্রটোকল বহরের পরিবর্তে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব হবে।
  • সংস্কারের ইঙ্গিত: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রাচারের ক্ষেত্রে ‘ভড়ং’ কমিয়ে কাজের গতি বাড়ানোর যে প্রশাসনিক সংস্কার শুরু হয়েছে, এটি তারই একটি অংশ।

দীর্ঘ ৯ বছর পর এই প্রটোকল আপডেট করা হলো। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বিমানবন্দরে অতিরিক্ত লোকসমাগম এবং ট্রাফিক জট নিয়ে জনমনে অসন্তোষ ছিল। নতুন এই নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার ফলে রাষ্ট্রপতির যাতায়াতকালীন আনুষ্ঠানিকতা যেমন সংকুচিত হবে, তেমনি প্রশাসনিক কাজেও গতিশীলতা ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, অবিলম্বে এই নির্দেশনা কার্যকর হবে এবং সকল রাষ্ট্রীয় সফরের ক্ষেত্রে এটিই এখন থেকে প্রমিত মান হিসেবে গণ্য হবে।

এনএন/ ৯ মে ২০২৬



Scroll to Top