রামপালে ৬৮৫ একর জমিতে ৪৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রস্তাব – DesheBideshe

রামপালে ৬৮৫ একর জমিতে ৪৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রস্তাব – DesheBideshe


রামপালে ৬৮৫ একর জমিতে ৪৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রস্তাব – DesheBideshe
সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র

বাগেরহাট, ০৭ অক্টোবর-সুন্দরবনের কাছাকাছি বাগেরহাটের রামপালে এবার বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে আলোচিত এই এলাকায় ৬৮৫ একর জমিতে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)।

আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ২ হাজার ৫০২ কোটি ৩৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বিউবোর নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে ৩৭৫ কোটি ৩৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। বাকি ২ হাজার ১২৭ কোটি ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা আসবে ‘বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল’ থেকে। চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকাতেও এটি রয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য ২০১২ সালে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। জমিটি ব্লক এ ও ব্লক বি—এই দুই অংশে ভাগ করা হয়েছে। ব্লক এ অংশে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে মৈত্রী সুপার থারমাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। আর ব্লক বি রয়েছে বিউবোর অধীনে। ব্লক বি-তে বিউবোর মালিকানাধীন জমির পরিমাণ ৯১৮ দশমিক ৫০ একর। এর মধ্যে ৭৬ দশমিক ৬৩ একর গ্রিন বেল্ট, ২৩ দশমিক ৮৭ একর বন্যা প্রতিরোধ বাঁধ, ৯৪ একর নিম্নভূমি এবং ৩০ একর লেক রয়েছে। এসব এলাকা বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট ৬৮৫ একর জমি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় সোলার প্যানেল স্থাপনের পাশাপাশি ইনভার্টার স্টেশন, পুলিং সাবস্টেশন এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় সঞ্চালন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

এদিকে রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি আজ একনেক সভায় নতুন ১০টি ও সংশোধিত একটি প্রকল্পসহ মোট ১২টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের কথা রয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমান। অনুমোদনের তালিকায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮ ওয়ার্ডের সড়ক ও ড্রেনেজ উন্নয়ন, রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে। এ ছাড়া বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও আটটি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ, বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ, ফ্রান্সের প্যারিসে কেনা চ্যানসারি ভবনের সংস্কার ও আধুনিকায়ন এবং প দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃজন এবং সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পও রয়েছে। এর বাইরে পরিকল্পনামন্ত্রী অনুমোদিত জয়পুরহাট জেলার নঞ্চগড়ে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণের প্রকল্পও রয়েছে।

তালিকায় থানচি-রিমাকরি-মদন-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ চতুর্থবার বাড়ানোর প্রস্তাব, সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃজন এবং সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পও রয়েছে। এর বাইরে পরিকল্পনামন্ত্রী অনুমোদিত জয়পুরহাট জেলার নন্দাহার, হারাবতী নদী, নুনগোলা খাল ও খাড়োয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্পের বিষয়েও একনেককে অবহিত করা হবে।

এস এম/ ০৭ অক্টোবর ২০২৬

 

Scroll to Top