ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় রাতের আঁধারে হায়না-সদৃশ একটি রহস্যময় বন্যপ্রাণীর ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে উপজেলার সহোদর, দোশিয়া ও বুড়িপুকুর গ্রামে এ তাণ্ডবের ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহতরা হলেন- বুড়িপুকুর গ্রামের ময়রমা (৭৫), জমেলা (৭০), আরিফ, মশিউর ও মকবুলসহ অন্তত ১০ জন।
এ আকস্মিক হামলায় তিনটি গ্রামজুড়ে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, সন্ধ্যার পর জরুরি প্রয়োজন ছাড়া স্থানীয়রা ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শরিফুল ইসলাম বলেন, “ক্ষতস্থান পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি হায়না-জাতীয় বন্যপ্রাণীর কামড়। আক্রান্তদের অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন এবং গুরুতর আহতদের অ্যান্টি-র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয়রা জানান, রাতের খাবার শেষে অনেকে বাড়ির উঠানে কিংবা চায়ের দোকানে আড্ডা দেন। এ সময় হঠাৎ একটি বন্যপ্রাণী মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এলোপাতাড়ি কামড়াতে থাকে। দ্রুত এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ছুটে গিয়ে পথচারী ও বাড়ির আঙিনায় থাকা মানুষদের আক্রমণ করে প্রাণীটি। পরবর্তীতে কয়েকটি বাড়িতে ঢুকে শিশু ও গৃহপালিত ছাগলের ওপরও তাণ্ডব চালায়।
বুড়িপুকুর গ্রামের বাসিন্দা আল মামুন জানান, প্রাণীটি ছিল অত্যন্ত হিংস্র। মানুষ দেখামাত্রই আক্রমণ করছিল। পরে গ্রামবাসী একত্র হয়ে ধাওয়া দিলে সেটি পালিয়ে যায়।
রাণীশংকৈল উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফিরোজ আলম জানান, “আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পর সবাইকে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।”



