রাজধানীর বর্জ্য থেকে উৎপাদন হবে বিদ্যুৎ | চ্যানেল আই অনলাইন

রাজধানীর আমিন বাজারে জমা বর্জ্য কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনে বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে চীন। এই বিষয়ে আগামী ২ সেপ্টেম্বর চীনের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে চীনের প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

আজ ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন।


বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, রাজধানীর আমিন বাজারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগে চীনের সহযোগিতা নেওয়া হবে। এই প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ২ সেপ্টেম্বর এই বিষয়ে চুক্তি হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে চীনের প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ। বিশেষ করে বর্জ্যকে বোঝা হিসেবে না দেখে তা থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উৎপাদনের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই খাতে সহযোগিতা পেলে রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ হবে।

বৈঠকে রাজধানীর কড়াইল, গুলশান ও মহাখালী বস্তির উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়। এসব এলাকায় আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চীনের কাছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রস্তাবটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের বিষয়ে চীন প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। এর মাধ্যমে বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত ও পরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বৈঠকে ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পয়ঃনিষ্কাশন ও আবাসন ছাড়াও দাশেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টকে পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহার উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় পাইপলাইন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের বিষয়টি উঠে আসে। এছাড়া বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং শিক্ষা কারিকুলামে ম্যান্ডারিন বা চীনা ভাষা অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা হয়।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার। পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নগর উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে চীনের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পারে।

অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও চীনের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়াতে চীন আগ্রহী।

Scroll to Top