বাংলাদেশে কারখানার কথা উঠলে অনেকের মনে পড়ে ২০১৩ সালের রানা প্লাজার ভবনধসের ঘটনা। ওই দুর্ঘটনায় এক হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই ভয়াবহ ঘটনার বিপরীতে রংপুরের এই কারখানা দেখাচ্ছে, কর্মক্ষেত্রের নকশায় মানুষের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও মর্যাদাকে গুরুত্ব দেওয়া কতটা জরুরি। একটি কারখানা শুধু উৎপাদনের জায়গা নয়, সেখানে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের জন্যও সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।
লন্ডনে পুরস্কার পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে একটি ভিন্ন ধরনের কর্মক্ষেত্র গড়ে তোলার স্বীকৃতি পাওয়া গর্বের বিষয়। আরআইবিএর প্রেসিডেন্টও বলেছেন, এই কারখানা দেখিয়েছে, সুচিন্তিত স্থাপত্যনকশার মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য কমাতে ভূমিকা রাখা সম্ভব।
এর আগে বাংলাদেশের আরেকটি স্থাপনা এই পুরস্কার পেয়েছিল। সাতক্ষীরার ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল। এবার সেই স্বীকৃতি এল রংপুরের গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরির হাত ধরে। বাংলাদেশের স্থাপত্য যে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার পাশাপাশি পরিবেশের কথাও ভাবতে পারে, এই অর্জন তারই প্রমাণ।
একটি কারখানা যে শুধু কাজ করানোর জায়গা নয়, বরং মানুষের জন্য সুন্দর ও মানবিক পরিবেশ তৈরির জায়গাও হতে পারে, রংপুরের এই কারখানা সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়।


