
তেহরান, ৮ সেপ্টেম্বর – যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হবে কি না সেই সিদ্ধান্ত ইরানের সাধারণ মানুষের ওপর ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। তার মতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যদি সংঘাতের পক্ষে না থাকে তবে বিকল্প পথ খুঁজে বের করা উচিত।
গত সপ্তাহের শেষ দিকে ইরানের সাবেক প্রাদেশিক গভর্নরদের এক সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন রুহানি সরাসরি কোনো শব্দ ব্যবহার না করলেও তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত গণভোটের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
হাসান রুহানি বলেন দেশের জাতীয় লক্ষ্য কী তা সবার আগে নিজেদের কাছে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। সরকার যদি জনগণের সামনে ২০ বছর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা পেশ করে এবং সাধারণ মানুষ তা মেনে নেয় তবেই সংঘাত অব্যাহত রাখা সম্ভব। তবে জনগণ যদি অন্য কোনো পথের ইঙ্গিত দেয় তবে সেই মতামতকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি মনে করেন যুদ্ধের অবসান হওয়া উচিত সম্মানজনকভাবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে। এতে যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পথ সুগম হবে।
রুহানির এমন বক্তব্যের পর ইরানের কট্টরপন্থিদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরেই রুহানির পশ্চিমা ঘেঁষা নীতির সমালোচনা করে আসছেন।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এই বক্তব্যকে অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংস্থাটি দাবি করেছে হাসান রুহানি জেনে বুঝেই এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে মন্তব্য করেছেন।
এছাড়া তেহরানের সংসদ সদস্য মরতেজা মাহমুদি সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইরানের ক্ষমতায় থাকা হাসান রুহানি মূলত ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তির প্রধান রূপকার হিসেবে পরিচিত। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্র ওই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ালে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়।
এনএন/ ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
