যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা আমরা ঠিক করব, ট্রাম্পকে ইরানের কড়া জবাব | চ্যানেল আই অনলাইন

যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা আমরা ঠিক করব, ট্রাম্পকে ইরানের কড়া জবাব | চ্যানেল আই অনলাইন

ইরানে যুদ্ধ কবে শেষ হবে তা যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং তেহরানই নির্ধারণ করবে এমন মন্তব্য করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কড়া জবাব দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে সামরিক অভিযান কখন শেষ হবে তা নির্ধারণ করবে ইরানই। তাদের দাবি, এখন অঞ্চলের সমীকরণ এবং ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি তেহরানের সশস্ত্র বাহিনীর হাতেই রয়েছে।

আইআরজিসি বলেছে, যুদ্ধের সমাপ্তি আমরা নির্ধারণ করব। যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী এই যুদ্ধ শেষ করতে পারবে না।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে। তার ওই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াতেই ইরানের পক্ষ থেকে এ বক্তব্য আসে।

মিয়ামির কাছে নিজের গলফ ক্লাবে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ‘খারাপ শক্তি’ দমন করতে যুক্তরাষ্ট্র সীমিত সময়ের জন্য অভিযান চালিয়েছে এবং এই অভিযান খুব বেশি দিন চলবে না বলে তিনি মনে করেন।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া আরেক পোস্টে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের সরবরাহ বন্ধ করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর হামলা চালাবে।

ট্রাম্প লিখেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের প্রবাহে বাধা দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর এখন পর্যন্ত যতটা আঘাত করা হয়েছে তার চেয়ে বিশ গুণ কঠোরভাবে হামলা চালাবে।

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, এমন হামলা চালানো হবে যাতে ইরানের পক্ষে আবার রাষ্ট্র হিসেবে ঘুরে দাঁড়ানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তবে একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিস্থিতি যেন সেই পর্যায়ে না পৌঁছায়।

এদিকে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়েছে। এক পর্যায়ে তেলের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় যখন ইরান নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনিকে নির্বাচিত করে। বিনিয়োগকারীরা এটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের অবস্থান আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

তবে পরে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে এমন আশায় তেলের দাম কিছুটা কমে এবং যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়।

সোমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। রুশ প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানান, উপসাগরীয় নেতাদের ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনার পর পুতিন দ্রুত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছেন।

ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দু এখন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি।

ইরান ওই জলপথ বন্ধ করে দেওয়ার পর প্রায় সব তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেয়। সাধারণত বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে তার দেশ ও মিত্ররা একটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক মিশনের পরিকল্পনা করছে।

সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার পর থেকে সেখানে বা আশপাশে অন্তত ১০টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।

বিশ্বের বড় শিপিং কোম্পানি এমএসসি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে কিছু রপ্তানি পণ্য পরিবহন সাময়িকভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে বাহরাইনের আল মামির তেল স্থাপনায় হামলার পর সেখানে আগুন লাগে। এর পর দেশটির রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি বাপ্কো কাতার ও কুয়েতের মতো ‘ফোর্স মাজ্যুর’ ঘোষণা করেছে, অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতির কারণে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হতে পারে।

অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলের একটি তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলা প্রতিহত করা হয়েছে।

Scroll to Top