মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় অপরিবর্তিত সুদহার, কড়াকড়ি নীতি বহাল | চ্যানেল আই অনলাইন

মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় অপরিবর্তিত সুদহার, কড়াকড়ি নীতি বহাল | চ্যানেল আই অনলাইন

মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী থাকায় নীতি সুদহার কমানোর ঝুঁকি নেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। আগের মতোই সংকোচনমুখী ধারায় নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে নীতি সুদহার বা রেপো রেট ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে আগামী জুন পর্যন্ত ব্যাংক ঋণের সুদহার কমার সম্ভাবনা কম।

শুধু রেপো হার নয়, সুদের হার করিডরের অন্যান্য সূচকেও বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। স্ট্যান্ডিং ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটির (এসএলএফ) ঊর্ধ্বসীমা আগের মতোই ১১ দশমিক ৫ শতাংশ রাখা হয়েছে। আর স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটির (এসডিএফ) নিম্নসীমা ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকলেও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। এতে ব্যবসা ও বিনিয়োগে গতি আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে চলতি অর্থবছরের শেষ ছয় মাসের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। এ সময় ডেপুটি গভর্নর, প্রধান অর্থনীতিবিদ, উপদেষ্টা, নির্বাহী পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মুদ্রানীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়ানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই এর প্রধান লক্ষ্য।

একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও মুদ্রানীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চলতি অর্থবছরের শেষার্ধের মুদ্রানীতির কাঠামো চূড়ান্ত করা হয়, যা গত ২৭ জানুয়ারি পরিচালনা পর্ষদের সভায় অনুমোদন পায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তবে নির্বাচনের পর ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই বিবেচনায় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

ড. আহসান এইচ মনসুর গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে তিন দফায় নীতি সুদহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেন। পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

এর ফলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমার পাশাপাশি বিনিময় হারেও স্থিতিশীলতা এসেছে। ডলার সংকট কাটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও স্বস্তি ফিরেছে।

তবে মূল্যস্ফীতি এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রার ওপরে থাকায় নতুন মুদ্রানীতিতে আগের মতোই কড়াকড়ি নীতি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Scroll to Top