মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়: ডিএসসিসি প্রশাসক – DesheBideshe

মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়: ডিএসসিসি প্রশাসক – DesheBideshe

মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়: ডিএসসিসি প্রশাসক – DesheBideshe

ঢাকা, ২৮ মার্চ – মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন ছাড়া দেশ কখনোই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল নেই, তারা এই দেশের এবং সমগ্র জাতির সম্পদ। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শনিবার নগর ভবনে আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা ২০২৬ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই আয়োজনে ঢাকার প্রায় দেড় হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি মো. আবদুস সালাম আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা দেশের প্রকৃত মালিকানার দাবিদার হওয়া সত্ত্বেও তারা সবসময় দেশে জনগণের অধিকার ও মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। ভবিষ্যতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হলে মহানগরীর অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাবলম্বী করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সিটি করপোরেশন গ্রহণ করবে বলে তিনি ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, উন্নত আবাসন এবং যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের ওপর একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানার্থে সম্মাননা স্মারক, ফুলেল শুভেচ্ছা ও উত্তরীয় প্রদান করা হয়। একাত্তরের রণাঙ্গনের স্মৃতিচারণা করে বক্তব্য রাখেন ৯ নম্বর সেক্টরের ক্যাপ্টেন নুরুল হুদা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নঈম জাহাঙ্গীর, সদস্যসচিব সাদেক আহমেদ খান, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক ইশতিয়াক আজীজ উলফাত এবং বিএনপির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল জয়নাল আবেদীন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, আমাদের প্রধান পরিচয় এবং ঠিকানা হলো মহান মুক্তিযুদ্ধ ও একাত্তর সাল। হাজার বছরের ইতিহাসে আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো স্বাধীনতা।

তিনি বর্তমান ও অতীতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কথা উল্লেখ করে বলেন, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন এবং চব্বিশের ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন আমাদের বড় রাজনৈতিক অর্জন। স্বাধীন দেশে এই রাজনৈতিক অর্জনগুলোকে সম্মান জানালেও এর সঙ্গে মহান স্বাধীনতাকে সমানভাবে তুলনা করা ঠিক হবে না।

স্বাধীনতা একবারই এসেছে এবং এর সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা করলে তা বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। মন্ত্রী আরও জানান, তার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রকৃত শহীদদের সংখ্যা নিরূপণ, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রস্তুত এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং কাজ করবে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বিবেচনায় রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সংবর্ধনা পর্বের পর একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন পরিচালিত বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতে দেশাত্মবোধক গান ও নৃত্য পরিবেশন করে। পাশাপাশি প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী বেবি নাজনীন, ইথুন বাবু, রিজিয়া পারভীন, মৌসুমি চৌধুরী ও শিবা শানু তাদের পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। সকাল দশটায় শুরু হওয়া এই বর্ণাঢ্য আয়োজন সন্ধ্যা সাতটায় সমাপ্ত হয়।

এ এম/ ২৮ মার্চ ২০২৬



Scroll to Top