শাহীনুরদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, উঠানে বসে স্বজনেরা আহাজারি করছেন। বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন শাহীনুরের বৃদ্ধ মা হাজরা বেগম। পাশে কাঁদছিলেন শাহীনুরের শাশুড়ি শেফালুর নেছা, ননদ নুরজাহান ও সুফিয়া বেগম। কেউ কাউকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না।
শাশুড়ি শেফালুর নেছা শুধু বলছিলেন, ‘একসঙ্গে চারজনকে হারানোর শোক কীভাবে সইব? আমার মরা পোলার সংসারটা একেবারে শেষ হয়ে গেল।’ শাহীনুরের মা হাজরা বেগম বলছিলেন, ‘আমার আদরের মাইয়াডারে কে মারল? আমার তিন নাতিনরে কেন মারল? ঈদের পর দুই দিন আইছিল, তখনো কি জানতাম এইটাই শেষ দেখা।’
নিহত শাহীনুরের স্বামী কামাল হোসেন প্রায় সাত বছর আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। জীবিকার তাগিদে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে সিলভারের হাঁড়িপাতিল বিক্রি করতেন তিনি। স্বামীর মৃত্যুর পর চার সন্তানকে নিয়ে রায়পুরেই থেকে যান শাহীনুর। গৃহকর্মীর কাজ এবং আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিলেন।



