মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর উৎসবময় ঈদুল ফিতর | চ্যানেল আই অনলাইন

মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর উৎসবময় ঈদুল ফিতর | চ্যানেল আই অনলাইন

দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার পর দেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শনিবার (২১ মার্চ) সারাদেশে পালিত হচ্ছে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর বিখ্যাত গান ‘রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’-এর সুর যেন নতুন করে প্রাণ পেয়েছে দেশের প্রতিটি প্রান্তে।

ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের শহর থেকে গ্রাম-সবখানেই বইছে আনন্দের আমেজ। নতুন পোশাক, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ, সেমাই-ফিরনি ও নানা খাবারের আয়োজন-সব মিলিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলিম পরিবারগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবের আবহ। শুক্রবার রাত থেকেই রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় ঈদের প্রস্তুতি, যা শনিবার সকাল পর্যন্ত চলতে থাকে।

ঈদ উপলক্ষে সরকারিভাবে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। দেশের প্রতিটি জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা জোরদার করেছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ঈদগাহ ও মসজিদ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায়ও নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ, যাতে করে মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারে।

ঈদ উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ঈদুল ফিতর মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব, যা সংযম, আত্মশুদ্ধি এবং নৈতিক উন্নয়নের শিক্ষা দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, রমজানের শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং ঈদের দিনে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার মাধ্যমে সমাজে সাম্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার হয়।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে দেশবাসীসহ বিশ্বের মুসলমানদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর আনন্দ, শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে আসে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উৎসব জাতির জীবনে ঐক্য ও সহমর্মিতা আরও সুদৃঢ় করবে।

রাজধানীতে জাতীয় পর্যায়ের প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান-এ সকাল সাড়ে ৮টায়। এই জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন এবং একসঙ্গে নামাজ আদায় করবেন।

তবে আবহাওয়া প্রতিকূল বা অন্য কোনো কারণে এই জামাত অনুষ্ঠিত না হলে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় ঈদগাহে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। বিকল্প ইমাম হিসেবে প্রস্তুত থাকবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ড. মাওলানা মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী।

এছাড়া বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সময়সূচি অনুযায়ী জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা এবং বেলা পৌনে ১১টায়।

এদিকে ঈদ উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ১৭ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মোট সাত দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। এতে করে রাজধানী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষ আগেভাগেই গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের সুযোগ পেয়েছেন।

ঈদ শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। দান-সদকা, যাকাত ও ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠার যে বার্তা রমজান দেয়, ঈদ সেই চেতনারই প্রতিফলন ঘটায়।

সব মিলিয়ে ধর্মীয় অনুশাসন, পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক সম্প্রীতির সমন্বয়ে এবারের ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে।

Scroll to Top