
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্সের নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত দুজন যোগাযোগকর্মী ইসরাইল সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত প্রচারণা কার্যক্রমেও কাজ করছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি এজেন্ট নিবন্ধন আইন (ফারা)-এর অধীনে ইসরাইলের প্রতিনিধি হিসেবে নিবন্ধিত। অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইট নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) তুর্কি সংবাদমাধ্যম তুর্কিয়ে টুডে এ খবর প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, রজার্সের প্রচারণার মুখপাত্র অ্যাবিগেল রনসন এবং যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ জেসি স্টোকস ইসরাইল সরকারের যোগাযোগ প্রকল্পে যুক্ত। একই সময়ে তারা রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কনভারজেন্স মিডিয়ার মাধ্যমে রজার্সের নির্বাচনী প্রচারণার কাজ করছেন।
ইসরাইল সরকারের হয়ে কাজের জন্য রনসন ২০২৬ সালের মে মাসে এবং স্টোকস ২০২৫ সালের অক্টোবরে ফারার অধীনে নিবন্ধন করেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার ব্যবস্থাপক ব্র্যাড পার্সকেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ক্লকটাওয়ার এক্স এলএলসির মাধ্যমে হাভাস মিডিয়া নেটওয়ার্কের একটি চুক্তিতে তাঁরা কাজ করেন।
নিবন্ধন নথিতে রনসনের কাজের বিবরণে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইল সরকারের একটি উদ্যোগের জন্য কৌশলগত যোগাযোগ, পরিকল্পনা ও গণমাধ্যমসেবা দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় ওই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ড্রপ সাইট নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইল সরকারের ৪ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের যোগাযোগ প্রকল্পে কনভারজেন্স মিডিয়ার ১৪ জন কর্মী উপঠিকাদার হিসেবে যুক্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কার্যক্রমও রয়েছে এই প্রকল্পে। একই হাভাস চুক্তির অধীনে নিবন্ধিত স্টোকস রজার্সের সিনেট নির্বাচনী প্রচারণার বেশ কয়েকটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও লিখেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, চলতি নির্বাচনী চক্রে রজার্সের প্রচারণা কনভারজেন্স মিডিয়াকে কয়েক মিলিয়ন ডলার দিয়েছে।
তবে ইসরাইল সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পে এই দুই কর্মীর যুক্ত থাকার তথ্য থেকে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে, ইসরাইল সরকার রজার্সের নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালনা করেছে বা তাতে নির্দেশনা দিয়েছে। রজার্সের প্রচারণা কর্তৃপক্ষ তাঁদের বিদেশি এজেন্ট হিসেবে নিবন্ধনের বিষয়ে জানত কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে রজার্সের প্রচারণা শিবির রনসনকে নিজেদের কর্মী হিসেবে অস্বীকার করেছিল। যদিও তিনি প্রচারণার আনুষ্ঠানিক ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে রনসন ও স্টোকস ড্রপ সাইট নিউজের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি। প্রচারণা শিবিরের অন্য একজন মুখপাত্রও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
