রাজধানীর মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল এলাকা পরিদর্শন করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)–এর প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। এ সময় সেখানে স্থাপিত একটি নতুন কম্পোস্ট প্ল্যান্টের উদ্বোধনও করেন তিনি।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে সাবেক ডেপুটি মেয়র আলহাজ নবীউল্লাহ নবীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে প্রশাসক এলাকাবাসী ও গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে একটি দৃষ্টিনন্দন ইকো-পার্ক ও খেলার মাঠে রূপান্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণ দূর করে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এলাকাটিকে নাগরিকদের জন্য একটি বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত করা হবে।

বর্জ্য থেকে সম্পদ উৎপাদনের উদ্যোগ বিষয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, ল্যান্ডফিলে প্রতিদিন সংগৃহীত প্রায় ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টন বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে একটি কোরিয়ান বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ঈদুল আযহা–র পর প্রকল্পটির কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় বর্জ্য ডাম্পিং না করে তা প্রক্রিয়াজাত করে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জৈব সার উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এছাড়া নতুন উদ্বোধন হওয়া কম্পোস্ট প্ল্যান্টে প্রতিদিন প্রায় ১০০ টন গৃহস্থালি পচনশীল বর্জ্য থেকে ২০ টন জৈব সার উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি সফল হলে এর পরিসর আরও বাড়ানো হবে, যা গ্রিনহাউস গ্যাস কমাতে এবং সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বাড়াতে সহায়ক হবে।

অগ্নিকাণ্ড রোধে নতুন ব্যবস্থার প্রসজ্ঞে তিনি আরও বলেন, মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে প্রায়ই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ কারণে ১৮১ একর এলাকাজুড়ে ৪০টি পয়েন্টে পানির হাইড্রেন্ট স্থাপন, পানির লাইন ও স্থায়ী জলাধার নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে আগুন নেভাতে নতুন ছয়টি পোর্টেবল পাম্প কেনা হয়েছে।
প্রশাসক জানান, ময়লার স্তূপ থেকে উৎপন্ন মিথেন গ্যাসের কারণে প্রায়ই এখানে আগুন লাগে। বর্তমানে ময়লার ওপর মাটির আচ্ছাদন দেওয়ার কাজ প্রায় ৪০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, যা দুর্গন্ধ ও অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এ সময় এলাকাবাসীর ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকাকে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সিটি কর্পোরেশন। খুব শিগগিরই মাতুয়াইল এলাকাকে একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে রূপান্তরের কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।





