
তেহরান, ১৯ মার্চ – ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক বা রাসায়নিক হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সম্ভাব্য হামলার আগেই ওই অঞ্চলজুড়ে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা বিতরণ করা হয়েছে।
ডব্লিউএইচওর পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হানান বালগি একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলে পারমাণবিক বা রাসায়নিক যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাই আগে থেকেই প্রস্তুতির কাজ চলছিল।
এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পটাশিয়াম আয়োডাইড বিতরণ করা হয়েছে যা পারমাণবিক বিকিরণের সময় মানুষের থাইরয়েড গ্রন্থিকে সুরক্ষা প্রদান করে। এর পাশাপাশি চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে যে সম্ভাব্য পারমাণবিক ঘটনা শনাক্তকরণের দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি কমিশন এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় নির্দেশনা প্রদান করে ডব্লিউএইচও। সংস্থাটির পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে মোট ২২টি দেশ রয়েছে যার মধ্যে অন্তত ১১টি বর্তমানে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংঘাতে জড়িত।
বিশেষজ্ঞদের মতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার সম্ভাবনা এবং অতীতে সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের নজির মিলিয়ে এই বিপর্যয়ের ঝুঁকি কোনোভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে যে এ ধরনের বিপর্যয় পুরোপুরি ঠেকানো হয়তো সম্ভব নয় তবে যথাযথ প্রস্তুতির মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
এনএন/ ১৯ মার্চ ২০২৬





