মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে জ্বালানি বিল বেড়েছে ৪-৫ বিলিয়ন ডলার: অর্থমন্ত্রী | চ্যানেল আই অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে সরকারের জ্বালানি বিল পরিশোধে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সব ধরনের জ্বালানি উৎসের মধ্যে সমন্বয় সাধন এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। প্রাথমিকভাবে সৌরশক্তির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক পরিস্থিতি; প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি খাতে তিন মাসের মজুত নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিদ্যমান সমস্যা এক দিনে সমাধান হবে না, এ জন্য সময় লাগবে। সৌরশক্তিতে বিনিয়োগে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, স্থানীয় বিনিয়োগ না বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগও আসবে না। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা যত গভীরই হোক, সেগুলো দূর করা হবে। সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমানোর বিষয়টি বাস্তবায়ন কঠিন হলেও সরকার এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আর্থিক খাত পুনরুদ্ধারের বিষয়ে আমির খসরু বলেন, সরকার ইতিমধ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। যারা শর্ত পূরণ করতে পারবেন, তারা ঋণ সহায়তা পাবেন। এ ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য হবে না।

কর-জিডিপির অনুপাত বাড়াতে অটোমেশনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে পুঁজিবাজার শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এর সুফল পাওয়া যাবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অর্থনীতি এখন একটি যুগসন্ধিক্ষণে রয়েছে। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত গতি আসবে না। করজাল সম্প্রসারণে হয়রানি কমানো এবং খেলাপি ঋণ কমাতে কাঠামোগত সমস্যা দূর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, দেশে বিনিয়োগে স্থবিরতা রয়েছে। উচ্চ সুদহার, উৎপাদন ও আমদানি ব্যয়, বিনিময় হার এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তায় ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বেড়েছে।

পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান জায়েদি সাত্তার বলেন, নীতিমালা ও বাস্তবায়নের মধ্যে বড় ধরনের ফারাক রয়েছে। উচ্চ শুল্কহারের কারণে স্থানীয়ভাবে মূল্যস্ফীতি ও পণ্যের দাম বাড়ছে।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে কর আহরণে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন। রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা কম। মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় মুদ্রানীতিতেও সংস্কার জরুরি।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক, ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমান, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমানসহ ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা।

সেমিনারে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে বলা হয়, সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৬ শতাংশ হলেও বেসরকারি খাতে তা মাত্র ৫ শতাংশ। বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে দীর্ঘ মেয়াদে ব্যাংকনির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজার শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

Scroll to Top