
ভোপাল, ৩ আগস্ট – ভারতের মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জেলায় গভীর রাতে ঘরের ভেতর থেকে এক নারীকে টেনে নিয়ে গেছে একটি বাঘ। রোববার ভোররাতে কানহা জাতীয় উদ্যানের খাপা রেঞ্জের অন্তর্গত পররাপুর বৈগাটোলা গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
বাঘের আক্রমণে গুরুতর আহত ওই নারীর পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। নিহত নারীর নাম সুগনি বাই ধুরভে। প্রায় ৩০ বছর বয়সী ওই নারী একটি কুঁড়েঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে বাঘটি ঘরে ঢুকে তার মাথা কামড়ে ধরে এবং প্রায় ৩০০ মিটার দূরে টেনে নিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যদের চিৎকার শুনে গ্রামবাসীরা টর্চ নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এলে বাঘটি সুগনি বাইকে ফেলে রেখে জঙ্গলে পালিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বাইহারের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
কানহা জাতীয় উদ্যানের সিজহোরা বাফার জোনের সহকারী কর্মকর্তা জানান যে ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। পুলিশ এই ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে। বন দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে গত কয়েক মাসে ওই এলাকায় বাঘ ও চিতাবাঘের লোকালয়ে ঢুকে পড়ার প্রবণতা বেড়েছে।
নিহত নারীর পরিবারকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। এছাড়া এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে একটি খাঁচা বসানো এবং বন দপ্তরের টহল বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে মৃত নারীর পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র এবং তারা দরজাবিহীন একটি কুঁড়েঘরে বসবাস করত।
কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পের সুবিধা না পাওয়ার ফলে তারা এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। বন দপ্তর বর্তমানে স্থানীয় বাসিন্দাদের রাতে ঘরের দরজা বন্ধ রাখতে এবং শিশু ও বয়স্কদের একা না ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে।
এস এম/ ৩ আগস্ট ২০২৬






