
বেইজিং, ১০ আগস্ট – পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পর মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। বেইজিংয়ের এই ইতিবাচক অবস্থানকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের বাইরে নতুন এক ভূরাজনৈতিক সমীকরণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
গত ৭ আগস্ট মক্কায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল শর্ত হলো, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সবার বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে গণ্য হবে। এই কাঠামোর মাধ্যমে দেশগুলো একে অপরের প্রতিরক্ষায় সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই সহযোগিতাকে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের আদলে গড়ে তোলা একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, এই চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা শক্তির বিরুদ্ধে নয়। চুক্তির আওতায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি সৌদি আরবে একটি স্থায়ী সচিবালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
ভবিষ্যতে মিসরের মতো অন্যান্য মুসলিম প্রধান দেশকেও এই জোটে অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা চলছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ন্যাটোর মতো একটি শক্তিশালী সামরিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
চীনের এই আগ্রহকে বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বেইজিংয়ে ওআইসি মহাসচিবের সঙ্গে এক বৈঠকে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই মুসলিম দেশগুলোর সাথে নিরাপত্তা অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
বেইজিং মনে করে, আঞ্চলিক সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সংগত করতে মুসলিম বিশ্বের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করা প্রয়োজন। পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে চীনের দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং তুরস্কের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক প্রভাবের সমন্বয় ভবিষ্যতে নতুন এক বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা বলয় তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এস এম/ ১০ আগস্ট ২০২৬


