
বুয়েনোস আইরেস, ২০ জুলাই – ভাঙা আঙুলের অসহ্য যন্ত্রণা সঙ্গী করে এসেছিলেন শিরোপা ধরে রাখার একবুক আশা নিয়ে। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে না পারলেও, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে লিওনেল স্কালোনির মূল কাণ্ডারী হয়ে উঠেছিলেন এমি মার্তিনেজ। কিন্তু ১২০ মিনিটের মহাকাব্যিক লড়াই আর ১১টি নিশ্চিত গোল বাঁচানোর পরও দলকে ট্রফি এনে দিতে পারলেন না এই গোল্ডেন গ্লাভজয়ী তারকা। স্পেনের কাছে ১-০ গোলের হারে ভেঙে গেল আলবিসেলেস্তেদের টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন।
ইউরোপা লিগের ফাইনালে ডান হাতের অনামিকা আঙুল ভেঙে গিয়েছিল মার্তিনেজের। ইংল্যান্ডের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও বিশ্বকাপের স্বার্থে সেই ঝুঁকি নেননি তিনি। ইনজেকশন ও ব্যথানাশক নিয়ে প্রতিটি ম্যাচে চরম যন্ত্রণা সহ্য করে গোলবারের নিচে দাঁড়িয়েছেন। ফাইনালের আগে নিজেই স্বীকার করেছিলেন—প্রতিটি মুহূর্ত ব্যথার সাথেই লড়াই করছিলেন তিনি।
স্পেনের অনবরত আক্রমণের সামনে আর্জেন্টিনা দল যখন কোণঠাসা, তখন একা দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মার্তিনেজ। যেখানে পুরো টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার জেতা স্পেনের উনাই সিমন পুরো আসরে সেভ করেছেন ১০টি, সেখানে কেবল ফাইনাল ম্যাচেই দিবু একাই ঠেকিয়েছেন স্প্যানিশদের ১১টি শট!
- লামিনে ইয়ামালের একের পর এক জোরালো শট ও ফ্রি-কিক
- নিকো উইলিয়ামসের হেড ও পেদ্রির দূরপাল্লার শট
- মিকেল ওয়ারজাবাল, দানি ওলমো, পাউ কুবারসি ও ফেরান তোরেসের নিশ্চিত গোল প্রচেষ্টা
১০৬ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে সমতায় টিকিয়ে রেখেছিলেন দিবু। তবে একটি সিদ্ধান্তহীনতার মুহূর্তই ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দেয়। নাহুয়েল মোলিনার পেছনে পড়া একটি ক্রস মাঠের বাইরে চলে যাচ্ছে ভেবে কিছুটা ধন্দে পড়ে যান মার্তিনেজ। ৬ গজের বক্সেই থেকে যান তিনি। সেই বলটিকে বাতাসে ভেসে জালে পৌঁছে দিয়ে স্পেনের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন ফেররান তোরেস।
“২০২২ সালে কাতার জয়ের পর দিবু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ২০২৬-এ জার্সিতে চতুর্থ তারকা যুক্ত করে ফিরবেন। ভাগ্যের নির্মূল পরিহাসে তা না হলেও, পুরো টুর্নামেন্টে মার্তিনেজের এই আত্মত্যাগ ও ফাইনালের লড়াই ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই যখন মেসি-আলভারেজরা মাঠে ভেঙে পড়েছিলেন, তখনো ভেঙে পড়েননি দিবু। ভেতরে চরম হতাশা থাকলেও নিজে ঘুরে ঘুরে প্রতিটি কান্নায় ভেঙে পড়া সতীর্থকে বুকে জড়িয়ে ধরেন, পিঠ চাপড়ে সান্ত্বনা দেন। মাঠের ভেতরের বীরত্ব আর মাঠের বাইরের এই মহানুভবতা স্পেনের জয়ের মাঝেও আলাদা করে উজ্জ্বল করে রেখেছে এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে।
এনএন/ ২০ জুলাই ২০২৬




