ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিজের রক্ত দিয়ে মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচালেন দুই নার্স

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিজের রক্ত দিয়ে মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচালেন দুই নার্স

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। জরুরি অস্ত্রোপচারের সময় মুমূর্ষু এক রোগীর জীবন বাঁচাতে হাসপাতালের দুই নার্স স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়ে দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার উজ্জ্বল নজির সৃষ্টি করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিজের রক্ত দিয়ে মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচালেন দুই নার্স

গত বুধবার দুপুরে আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং অটোরিকশাচালক আব্দুর রহিমের স্ত্রী হাসিনা (২৫) একটোপিক প্রেগন্যান্সির কারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফ্যালোপিয়ান টিউব ফেটে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সে সময় তার সঙ্গে ছিল কেবল সাত বছর বয়সী কন্যাসন্তান সাদিয়া। জীবিকার প্রয়োজনে স্বামী বাইরে থাকায় হাসপাতালে রোগীর পাশে কোনো অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন না। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় গাইনি বিভাগের চিকিৎসকেরা সময় নষ্ট না করে দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।

গাইনি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. জাকিয়া সুলতানা রুনা, ডা. জিনান রেজা এবং ডা. শামীমা রহমান সুমির তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচার শুরু হয়। এ সময় অ্যানেস্থেসিয়ার দায়িত্ব পালন করেন ডা. তৌহিদ আহমেদ চৌধুরী ও ডা. অপর্ণা দাস। অপারেশন থিয়েটারে চিকিৎসকদের সহায়তায় ছিলেন সিনিয়র স্টাফ নার্স কামরুল ইসলাম এবং ওটি ইনচার্জ মোছা. রুনা আক্তার।

অস্ত্রোপচার চলাকালে হঠাৎ রোগীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন হয়। কিন্তু হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন না রোগীর কোনো স্বজন। একই সময়ে হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক থেকেও প্রয়োজনীয় রক্তের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। এমন সংকটময় মুহূর্তে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালীর তদারকিতে কার্ডিওলজি ওয়ার্ডের ইনচার্জ রুকসানা আক্তার এবং স্টুডেন্ট নার্স তাসলিমা আক্তার স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়ে রোগীর জীবন রক্ষায় এগিয়ে আসেন।

তাদের এই মানবিক উদ্যোগে সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয় এবং চার সন্তানের জননী হাসিনার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়। অস্ত্রোপচার শুরুর প্রায় ৪৫ মিনিট পর হাসপাতালে পৌঁছান রোগীর স্বামী আব্দুর রহিম।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালী বলেন, দায়িত্বের গণ্ডি পেরিয়ে নিজেদের রক্ত দিয়ে সহকর্মী নার্সরা যে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। তাদের এই উদ্যোগ শুধু একটি জীবনই রক্ষা করেনি, বরং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের সেবার মান ও মানবিকতার দৃষ্টান্তকেও আরও সমৃদ্ধ করেছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও একই মানবিক মনোভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাবে।

Scroll to Top