ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের সিদ্ধান্তটা অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক

ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের সিদ্ধান্তটা অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক

জ্যোতি রহমান

জ্যোতি রহমান: আইএমএফ সাধারণত ১৫-২০ বছর ধরে যে সংস্কারগুলোর কথা বলছে, তার একটি বড় অংশের সঙ্গে দেশীয় অর্থনীতির কাঠামোগত চাহিদার যৌক্তিক মিল রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রধান দ্বিমতগুলো তৈরি হয় বাস্তবায়ন কৌশলে। আমাদের দেশের প্রধান রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সমস্যা হলো রাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের অভিজাত ও সুবিধাভোগী (প্রিভিলেজড) শ্রেণির রাজস্ব ও রাজনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত দুর্বল।

এই শ্রেণি তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন বা ভ্রমণের মতো মৌলিক নাগরিক সেবার জন্য রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল নয়। একমাত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়া রাষ্ট্রের আর কোনো সেবাতেই তাদের প্রত্যক্ষ নির্ভরতা নেই। ফলে তারা রাষ্ট্রের প্রতি কর প্রদানে কোনো সামাজিক বা নৈতিক দায়বদ্ধতা অনুভব করে না।

যখন রাষ্ট্র কর-জিডিপি অনুপাত কম বলে রাজস্ব বাড়াতে চায়, তখন এই শ্রেণি উল্টো অভিযোগ করে যে রাষ্ট্র টাকা অপচয় করে। তবে প্রকৃত চিত্র হলো, আমাদের রাষ্ট্রকাঠামোর প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এতটাই কম যে বড় অঙ্কের টাকা পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করার মতো সক্ষমতাও বস্তুত তাদের নেই।

অতএব, আইএমএফ যখন কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো কিংবা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়ানোর কথা বলে, সেগুলোর সঙ্গে সরকারের নিজস্ব লক্ষ্যমাত্রার কোনো মৌলিক বিরোধ থাকার কথা নয়। মতপার্থক্য তৈরি হতে পারে কেবল বিস্তারিত শর্তাবলি ও দর–কষাকষির সুনির্দিষ্ট কৌশল নিয়ে। এখন ব্যাংকিং খাত বা এনবিআরের সংস্কার কীভাবে করা হবে, তা সরকারকে ঠিক করতে হবে।

আপনি কি ৫-১০টি দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করে জাতীয়করণ করবেন, নাকি একীভূত করে বেসরকারি বা বিদেশি খাতে বিক্রি করে দেবেন, নাকি সরাসরি লিকুইডেট (বিলুপ্ত) করে দেবেন? এসবই টেকনিক্যাল বিষয়। কিন্তু মূল সিদ্ধান্তটা রাজনৈতিক। তবে রাজনৈতিক সুবিধাভোগীদের তুষ্ট রাখা ও ব্যবসায়ীদের জন্য ‘ঠেকা দেওয়া প্রণোদনার’ সমাধানের পথে হাঁটলে রাজনৈতিক আত্মহননের পথকেই ত্বরান্বিত করবে।

Scroll to Top