তাম্বুলবুনিয়া বন অফিস থেকে সকালের জোয়ারে আমরা বেড়ির খাল ধরে এগিয়ে চলেছি। জাহাজের দোতলায় বসার রুমে গবেষণার নানা বিষয়ে হালকা ধাঁচের আলোচনা চলছে। আমাদের জাহাজ তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট ক্যাম্প থেকে রওনা হয়েছে ঘণ্টাখানেক আগে। খুলনার কালাবগির মৌয়াল জেনারুল ঢালী গলায় গামছা জড়িয়ে জাহাজের সামনের ডেকে বসে পান চিবুচ্ছিল। পাশেই ছিলেন আরও কয়েকজন স্থানীয় গবেষক। হঠাৎ জেনারুল ঢালীর, ‘ওই, বাঘ, বাঘ; ওই বাঘ যায়’ চিৎকারে আমরা পড়িমরি করে রুম থেকে বেরিয়ে এলাম।
পৌনে ১২টার দিকে বেড়ির খালের প্রায় অর্ধেকটা অতিক্রম করি। খালটিতে বেশ কিছু বাঁক আছে, সেই সঙ্গে বেশ সরু, তাই জাহাজের গতি কম রাখতে হচ্ছিল। এ সময় হালকা বৃষ্টিতে চারপাশের পরিবেশ হয়ে ওঠে বেশ উপভোগ্য। দুই পাশের গভীর বন আর খালের দুই পাড়ের গোলপাতার সারি প্রতিটি মুহূর্তকে আরও আনন্দময় করে তোলে। ঠিক এমন সময় বাঘের উপস্থিতি আমাদের হকচকিয়ে দেয়। ক্যামেরা হাতের পাশেই ছিল। রুম থেকে দ্রুত বের হয়ে ক্যামেরার ভিউ ফাইন্ডারে চোখ রাখতে গিয়ে অন্ধকার ঠেকল। বাঘ তো দেখতে পাচ্ছি না। আসলে ক্যামেরার লেন্সে যে ক্যাপ লাগানো ছিল, সেটি খোলার কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। বাঘ বলে কথা! হঠাৎ বাঘের উপস্থিতিতে মানুষের মননে একটি তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এ সময় স্বাভাবিক থাকাটা কঠিন হয়ে পড়ে। আমাদের অবস্থাটাও তা–ই হলো। সুন্দরবনে এমন মুহূর্ত খুব বেশি আসে না।



